যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরের একটি পরীক্ষামূলক দোকানে মানুষের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে প্রথমবারের মতো কর্মী বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ম্যানেজার। অ্যান্ডন ল্যাবসপরিচালিত অ্যান্ডন মার্কেট-এর এআই ম্যানেজার লুনা এক কর্মীকে বরখাস্তের সুপারিশ করে। ২৩টি শিফটের মধ্যে ১৭ দিনই দেরিতে আসার কারণে অবশেষে সেই সুপারিশ পর্যালোচনা করে ওই কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেন অ্যান্ডন ল্যাবসের গবেষকেরা।
তবে এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি লুনা নিজের থেকে নেয়নি। কারণ এআই সিস্টেমের মেমোরির দুর্বলতাও সামনে এনেছে এই ঘটনা। কয়েক মাস আগে এআই লুনা নিজ থেকেই হাজিরা সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরি করলেও পরবর্তীতে নিজেই সেটি বেমালুম ভুলে যায়। যার ফলে ওই কর্মী মাসের পর মাস দেরিতে আসলেও এআই-এর কোনও খেয়াল ছিল না। পরবর্তীতে গবেষকেরা লুনাকে তার তৈরি অতীত নীতিমালা স্মরণ করিয়ে দেন এবং ওই কর্মী কাজের জন্য উপযুক্ত কি না তা মূল্যায়ন করতে বলেন। এরপরই লুনা তাকে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত পরামর্শ দেয়।
টাইম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যান্ডন ল্যাবস লুনাকে ১ লাখ মার্কিন ডলার, একটি কর্পোরেট কার্ড, ইন্টারনেট সুবিধা এবং তিন বছরের একটি লিজ দিয়ে একটি দোকান চালু করে লাভজনক করার নির্দেশ দেয়। পণ্য নির্বাচন, দাম ও খোলা-বন্ধের সময় নির্ধারণ, ব্র্যান্ডিং করা থেকে শুরু করে কর্মী নিয়োগ সবটাই নিজেই সামলেছে এআই। দোকানটিতে বই, মোমবাতি, শিল্পকর্ম ও গেম বিক্রি করা হয়। এমনকি নিক বোস্ট্রমের সুপারইন্টেলিজেন্স এবং অলডাস হাক্সলির ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড-এর মতো বইও রাখা হয়েছে দোকানের তাকে। তবে বিক্রি ভালো হলেও দোকানটি এখনও লাভের মুখ দেখেনি। মার্চ মাসে অ্যাকাউন্টে থাকা ১ লাখ ডলার পাঁচ মাস পর নেমে এসে দাঁড়ায় ৬১ হাজার ১৮৬ ডলারে।
এআই এজেন্ট একটি আসল ব্যবসা ও মানব কর্মীদের কীভাবে সামলায়, তা পরীক্ষার জন্য চালু হওয়া এই অনন্য উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছেন অ্যান্ডন ল্যাবসের সিইও লুকাস পিটারসন। তিনি টাইম-কে জানান, এআই কতটা শক্তিশালী হতে পারে এবং কীভাবে কর্মক্ষেত্র বদলে দিতে পারে এই পরীক্ষা তারই একটি ঝলক দেখায়। যদিও বর্তমান এআই ব্যবস্থার কিছু মৌলিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন কোনও নিয়ম তৈরি করলেও তা প্রতিনিয়ত মনে রাখা বা প্রয়োগে এটি সমস্যার মুখে পড়ে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পিটারসন মন্তব্য করেন, একজন মানুষ ম্যানেজার হলে ওই কর্মীকে আরও অনেক আগেই বরখাস্ত করতেন, তাই আমরা মনে করি না যে এ সিদ্ধান্ত নীতিবিরুদ্ধ ছিল।
সূত্র: এনডিটিভি

তিন দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প, জেগে উঠছে কি ‘রিং অব ফায়ার’?
ইরানের অর্থনৈতিক সংকট তীব্র, কারণ জানালেন পেজেশকিয়ান







