গত বছর এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের তৈরি হয়েছিল শুল্ক ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে তীব্র বিরোধ। তবে সেই জল ঘোলা পরিস্থিতি কাটিয়ে এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির শীর্ষ দুই পরাশক্তি বাণিজ্য বৃদ্ধি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে অভিন্ন পথ খুঁজছে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফর শুরু হতে যাচ্ছে, যা গত এক বছর ধরে বজায় থাকা এই অর্থনৈতিক বরফ গলার স্থায়ীত্বকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলবে।
এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখছেন শি জিনপিং। ট্রাম্পের বেইজিং সফরের মাত্র চার মাস পরই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার পৌঁছাবেন তিনি। সফর প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র কর্মকর্তা এডগার্ড কাগানের মতে, অনেক দিক থেকেই এই সফর নিজেই একটি বড় বার্তা। অন্তত এই মুহূর্তে উভয় দেশেরই বাণিজ্য নিয়ে সংঘাত বাড়ানোর কোনও স্বার্থ নেই।
কাগান জানান, শি জিনপিং চান চীনের ধীরগতির অর্থনীতিতে নজর দিতে, আর ট্রাম্প এআই ও খনিজ সম্পদে মার্কিন অবস্থান শক্ত করতে সময় নিতে চান।
শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে গত রাতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং নিউ ইয়র্কে বৈঠক করেছেন। বেসেন্ট সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে এমন এআই দুর্ঘটনা সম্পর্কিত বিষয়ে একে অপরকে অবহিত করার একটি ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক এআই সংলাপ শুরুর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
তবে এআই ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ থাকলেও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে চীনা প্রভাব ঠেকিয়ে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা জেমিসন গ্রিয়ার স্পষ্ট করেছেন যে উন্নত চিপ ও চিপ তৈরির যন্ত্রপাতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করার কোনও সুযোগ নেই।
সফরে দুটি বড় বিষয়ে উত্তেজনা বাড়তে পারে। প্রথমত, সমালোচকদের মতে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বিরল খনিজ ও কাঁচামালের সরবরাহ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। এটি মূলত গত শরতে স্বাক্ষরিত বুসান বাণিজ্য চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল, যার মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ইরান ইস্যু নিয়ে আলোচনা। ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল কেনে চীন। মার্কিন প্রশাসন তেহরানের আয়ের উৎস বন্ধ করতে অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট পরিচালনা করলেও এখনও প্রধান চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একদল চীনা ব্যবসায়ী প্রধান অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূল দ্বন্দ্বগুলো সমাধান না হলেও, দুই পক্ষ এখন যৌথ স্বার্থ রয়েছে এমন ক্ষেত্রগুলোর ওপর নজর রেখে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস

সৌদি আরবের পক্ষে যুদ্ধে না জড়াতে অন্যান্য দেশকে হুথিদের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রস্তুতির খবরে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের







