ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমার সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যা তাদের পুনর্গঠিত হতে এবং মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বে আগের চেয়ে বড় দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ দেবে?
এর পর পরই নিজের আগের প্রশ্নের রেশ ধরে ট্রাম্প বলেন, নাকি আমি ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস করে দেব এবং তা দ্রুত করব, যাতে অন্য কোনও দেশ বা মানুষকে হত্যা ও ধ্বংস করার সুযোগ তারা আর কখনও না পায়?
তবে নিজের এই প্রশ্নের উত্তর ট্রাম্প নিজেই দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ৮০ বছর বয়সী এই মার্কিন নেতা বলেন, আমার বিশ্বাস, নির্বাচনের পরপরই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো। কারণ চুক্তি না করা তাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমার ফলাফল কেমন হয়, তারা মূলত সেটির জন্যই অপেক্ষা করছে।
ট্রাম্প যখন তেহরানের বিরুদ্ধে বিগত ছয় মাসের সামরিক অভিযানের পক্ষে বক্তব্য রাখা শুরু করেন, তখন জাতিসংঘের ইরান প্রতিনিধি দলের প্রায় সব সদস্য কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান; কেবল একজন প্রতিনিধি বসে ছিলেন।
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প তার সামরিক পদক্ষেপের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে তার অটল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে অসাধারণ জাতির প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিপদের ঝুঁকিকে আরেক দিনের জন্য বাড়তে দেওয়ার কোনও ইচ্ছা আমার নেই। সমস্যাকে পুষে রাখায় আমি বিশ্বাস করি না।
বক্তব্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতকরা বলতে ভালোবাসে যে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ কমে এসেছে, কিন্তু তা সত্য নয়। আমরা ভাবতেও পারি না, এমন বিপুল পরিমাণ অস্ত্র আমাদের রয়েছে এবং আমরা আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ হারে আন্তর্জাতিক মানের যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বর্তমানে ১৮টি নতুন গোলাবারুদ তৈরির কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এগুলো উন্মুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিশ্বনেতারা আন্তর্জাতিক সংকট ও বৈশ্বিক বিষয়াবলী নিয়ে বক্তব্য রাখছেন।
সূত্র: এনডিটিভি









