সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান চীনকে আফগানিস্তানের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেবে না। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে একথা জানা গেছে। শুক্রবার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।
আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান নতুন নতুন ভূখণ্ড দখল করার পর এই মন্তব্য জানা গেলো। দেশটি থেকে ২১০ জন চীনা নাগরিককে ইতোমধ্যে ভাড়া বিমানে ফিরিয়ে নিয়েছে বেইজিং।
আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে দেশটি ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট (ইটিআইএম)-এর আশ্রয়স্থলে পরিণত হতে পারে। বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠীটি আল-কায়েদার সঙ্গে সংযুক্ত এবং জিনজিয়াং প্রদেশে সশস্ত্র সংগ্রাম করছে। খনিজসম্পদে ভরপুর জিনজিয়াংয়ের সঙ্গে আফগানিস্তানের আট কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
তালেবান মুখপাত্র সোহেল শাহীন জানান, আফগানিস্তানের পুনর্গঠন কাজে বিনিয়োগ নিয়ে শিগগিরই বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাশা করছেন তারা।
তিনি আরও জানান, আফগানিস্তানে আল-কায়েদা বা যে কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সক্রিয় হতে দেবে না তালেবান।
সোহেল শাহীন বলেন, আমরা অনেকবার চীনে গিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। চীন একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ এবং আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে আমরা তাদের স্বাগত জানাই। যদি চীনা বিনিয়োগ আসে আমরা অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। তাদের নিরাপত্তা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত না করে সেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট সমালোচনা করেছে চীন। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানকে আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
মঙ্গলবার চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চীন ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। আফগানিস্তানের সংকট চীন ও পাকিস্তানের জন্য বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ।
আফগানিস্তানে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। এখানে কপার, কয়লা, লোহা, গ্যাস, কোবাল্ট, মার্কারি, স্বর্ণ, লিথিয়াম ও থোরিয়ামের বড় মজুদ রয়েছে। এগুলোর মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।
২০১১ সালে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি) ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি কাজ পায়। এর আওতায় ২৫ বছর ধরে তিনটি তেলক্ষেত্রে অনুসন্ধান চালাবে তারা। ধারণা করা হয় এখানে প্রায় ৮৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। লোগার প্রদেশে মেস আয়নাক কপার খনিতে অনুসন্ধানের কাজও পেয়েছে একটি চীনা কোম্পানি।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তালেবান যে প্রতিশ্রুতিই দিক না কেন চীন খুব সতর্ক ও উদ্বেগে থাকবে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের এশিয়া প্রোগ্রামের একজন সিনিয়র ট্রান্সলান্টিক ফেলো অ্যান্ড্রিউ স্মল বলেন, তালেবান যে ভাষাই ব্যবহার করুক না কেন চীন এখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে খুব বেশি উদ্বেগে থাকবে।
তার মতে, চীনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো তালেবান উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেবে কিনা।
সম্প্রতি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিমদের নিয়ে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এতে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে চীন। এর আগে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচও প্রায় একই ধরনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছিল, তারা বিশ্বাস করে চীনের সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে উইঘুরদের প্রতি চীনের নীতিকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে। চীন অবশ্য উইঘুরদের বিরুদ্ধে কোনও অত্যাচারের কথা অস্বীকার করে। তাদের অভিযোগ, চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের দেশগুলো হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া








