কলকাতার বাঘাযতীন থেকে ট্যাংরা। হেলে পড়েছে একের পর এক বাড়ি। এই আবহে গোটা কলকাতাজুড়ে সমীক্ষা চালিয়ে কলকাতা পৌরসভার বিল্ডিং বিভাগের কাছে উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কলকাতা শহরে গত কয়েক মাসে মোট ৩০টি বহুতল হেলে পড়েছে। যেকোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
হেলে পড়া বাড়ির তালিকায় নতুন সংযোজন বাগুইআটির জগৎপুরে। বিধাননগর পুরনিগমের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাগুইহাটির জগৎপুর নেতাজি পল্লীতে দেখা গেলো দুটি বিল্ডিং হেলে পড়েছে একে অন্যের গায়ে। দেখে মনে হচ্ছে একটি বিল্ডিং অপর বিল্ডিং-এর গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ঝিনুক মণ্ডল বাড়ি দুটির হেলে পড়ার ঘটনা জানিয়ে বিধাননগর পুরনিগমে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। ঝিনুক মণ্ডলের দাবি, তার আমলে এই সব বাড়ি তৈরি হয়নি।
কাউন্সিলর বলেন, আমি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কড়া পদক্ষেপ নেব। অনুমতি ছাড়া কোনও বিল্ডিং করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কারও ব্যক্তিগত বাড়িতে আমরা হাত দিতে পারি না।
সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলর আশা নন্দী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুকুর ভরাট করে মাত্র কয়েক ছটাক জমিতে গড়ে উঠেছে এই বাড়িগুলো। কয়েক বছরের মধ্যেই একে অপরের গায়ে হেলে পড়ছে সেগুলো।
এদিকে সমীক্ষার পর কী জানা যাচ্ছে কলকাতা পৌরসভায় জমা পড়া রিপোর্টে? জানা গেছে, এই বিপুলসংখ্যক হেলে পড়া বহুতলের মধ্যে ৬৫ শতাংশই বেআইনি। যেগুলো কোনও নকশা অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হয়েছে।
কলকাতা শহরের বুকে কীভাবে এতগুলো বাড়ি রাতারাতি তৈরি হয়ে গেলো? শুধু তাই নয়, বেআইনি নির্মাণ তৈরি হয়েছে, এমনকি মানুষ বসবাস করতেও শুরু করেছে। সেটিই এখন চিন্তার বিষয় বিল্ডিং বিভাগের।
আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বাঘাযতীনে যে ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে, এই ঘটনা যদি বাকিগুলোর ক্ষেত্রে রাতের বেলায় ঘটে, তাহলে প্রাণহানি শতভাগ নিশ্চিত। বিল্ডিং বিভাগের একটা তথ্য বলছে, মেয়র বরাবরই দাবি করে থাকেন, গত এক বছরে একশোর কাছাকাছি বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। বেআইনি নির্মাণ নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বেআইনি অংশ ভেঙেই সেটাকে নির্মাণ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কলকাতা শহরে বেআইনি নির্মাণ কত সেটির তথ্য আজ পর্যন্ত দিতে পারেনি কলকাতা পৌরসভা। কিন্তু একের পরে হেলে পড়তেই সমীক্ষা চালিয়ে এবং বরোভিত্তিক তথ্য নিয়ে শহরের বহুতলগুলোর অবস্থা জানান দিলো পৌরসভা।
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, আমার কাছে জমা পড়েছে হেলে যাওয়া বাড়ি নিয়ে রিপোর্ট। প্রায় তিরিশটি বাড়ি রয়েছে। সেখানে লোকজন আছে। আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের তোপ, কলকাতার উপকণ্ঠে দমদম, পানিহাটি, কামারহাটিসহ একাধিক জায়গায় বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরি হচ্ছে। যেখানে ৫ তলা বাড়ি তৈরির অনুমতি পাওয়া উচিত নয়, সেখানে ৮ তলা বাড়ি তৈরি হয়ে যাচ্ছে। টাকা দিলেই সব হয়ে যায়।








