সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে ১৪০০ কিমি পাড়ি দিয়ে অধ্যাপককে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ জুন ২০২৬, ১৯:০০আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ১৯:০৯

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপককে হত্যার রহস্য মাত্র তিন দিনের মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে ঘাতকরা পশ্চিমবঙ্গে থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিল্লিতে এসেছিলেন।

বুধবার পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টস-এর নিজ ফ্ল্যাট থেকে শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবস্মিতা পালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর টানা অভিযান চালিয়ে দিল্লির পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামের ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাদের নাবালক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। দাস দম্পতিকে স্থানীয় আদালতে হাজির করে আরও তদন্তের জন্য ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকারীরা বর্ধমানের বাসিন্দা। তারা দেবস্মিতার সঙ্গে দেখা করার অজুহাতে দিল্লিতে এসেছিলেন। দেবস্মিতা পাঁচ বছর সংসার করার পর ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে আলাদা হয়ে যান। তার স্বামী বেঙ্গালুরুতে থাকায় তিনি ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন।

বুধবার সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, মাস্ক পরা অভিযুক্তরা কিছু ব্যাগসহ একটি প্রাইভেট ক্যাবে করে দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে আসেন। সন্দেহ এড়াতে তারা তাদের নাবালক ছেলেকেও সঙ্গে নিয়েছিলেন এবং লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় ওঠেন। পরিচিত হওয়ায় তারা সহজেই ঘরে ঢোকার সুযোগ পান এবং সঙ্গে আনা অস্ত্র দিয়ে দেবস্মিতাকে হত্যা করেন।

সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৩০ মিনিট পর ঘাতকরা জামাকাপড় পরিবর্তন করে নিচে অপেক্ষমাণ ক্যাবটিতে চড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ ওই ক্যাবচালককে আটকে রেখে যাত্রীদের পরিচয় বের করে। বুধবার ওই আবাসন কমপ্লেক্সে আসা ২০০ জন মানুষের মধ্য থেকে অন্তত ১৩ জন সন্দেহভাজনকে বাছাই করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাশাপাশি সাতটি পুলিশ দল চারটি রাজ্যজুড়ে অভিযান চালায় এবং শত শত মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই মামলার জট খোলে। অবশেষে বর্ধমান থেকে খুনিদের গ্রেফতার করে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

হত্যার মোটিভ

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেবস্মিতা তার নানার মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে কোটি টাকা মূল্যের একটি সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। অভিযুক্ত দম্পতি সেই বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিটি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অন্যদিকে দেবস্মিতা তাদের বাড়িটি খালি করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। বাড়ি ছাড়ার এই চাপ থেকেই দম্পতি তার সম্পত্তি দখল করার উদ্দেশ্যে এই খুনের পরিকল্পনা করেন।

যেভাবে মরদেহ উদ্ধার হলো

বৃহস্পতিবার দেবস্মিতার বোন দেবারতি পুলিশকে জানান তার বোনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। বারবার ফোন করেও দেবস্মিতাকে না পেয়ে দেবারতি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন।

কর্মকর্তারা জানান, ঘরের ভেতরে দেবস্মিতার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার কবজির রগ কাটা ছিল। ঘরে থাকা গহনা ও নগদ টাকা অক্ষত থাকায় এটি কোনও ডাকাতির ঘটনা ছিল না বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

সূত্র: এনডিটিভি

/এএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তি প্রয়োগ না করার আহ্বান চীনের
ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির বৈঠক
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
ইবির নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ
ইবির নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ
সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান মুক্তি কাউন্সিলের
সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান মুক্তি কাউন্সিলের
‘ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন’
‘ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন’
প্রবাসীকে খুন: আরও তিন আসামির স্বীকারোক্তি, কারাগারে সাজিদ
প্রবাসীকে খুন: আরও তিন আসামির স্বীকারোক্তি, কারাগারে সাজিদ
সর্বাধিক পঠিত
মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়লো 
মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়লো 
সেই ভবন ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা জানালো পুলিশ
সেই ভবন ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা জানালো পুলিশ
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা
স্বর্ণের দামে বড় পতন
স্বর্ণের দামে বড় পতন
বড় অফারে ছোট করে ‘সিএ’ লিখে প্রচারণার অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ গ্রাহক সামলাতে পুলিশ
বড় অফারে ছোট করে ‘সিএ’ লিখে প্রচারণার অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ গ্রাহক সামলাতে পুলিশ