পিউ রিসার্চ কেন্দ্রের সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপ অনুয়ায়ী, বিগত ২০ বছরে এই প্রথম বারের মতো, বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক জনমতের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন। মার্কিন মিত্রদেশগুলোর মানুষের মধ্যেও চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি দুর্বল হওয়ার প্রেক্ষাপটে, চলতি বছরের জরিপে অন্তর্ভুক্ত ৩৬টি দেশের অধিকাংশেই, চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রও।
বিশেষ করে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব আরও স্পষ্ট। কেবল ভারত, জাপান, ফিলিপিন্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ইসরায়েল ও পোল্যান্ড এই ৬টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক জনমত চীনের তুলনায় বেশি।
২০২৩ সাল থেকে জরিপের উপাত্ত পাওয়া যায় এমন ২০টি দেশের মধ্যে প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা চীনের প্রতি ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৩৬ শতাংশ।
তিন বছর আগে এই অনুপাত ছিল চীনের ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ৫৮ শতাংশ। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে নেমে যাওয়ার পর, চীনের ভাবমূর্তি আবারও উন্নতির দিকে ফিরছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বৈশ্বিক জনমতে আরও নেতিবাচক পরিবর্তন পরে। যদিও তখনও অধিকাংশ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মূল্যায়ন চীনের চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু, এ বছর সেই পরিস্থিতি আর নেই।
পিউ-র চীনবিষয়ক আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপের কয়েকটি দেশসহ বহু দেশে, চীনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিহাসে সর্বোচ্চ বা তার কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে, জরিপে অন্তর্ভুক্ত ১৭টি মধ্যম আয়ের দেশের উত্তরদাতারা চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব দেশে বেশি মানুষ চীনকে ‘বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে দেখেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ‘বড় অবদান’ অথবা ‘উল্লেখযোগ্য অবদান’ রাখছে বলে মনে করেন।
পিউ রিসার্চ কেন্দ্র চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত, ৪২ হাজারের বেশি মানুষের ওপর, এই জরিপ পরিচালনা করে। জরিপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
সূত্র: সিএমজি

ইসরোর গণপদত্যাগকে পাত্তা দিচ্ছেন না ভারতীয় বিজ্ঞানমন্ত্রী
মা-বাবা ও দাদা-দাদিকে কানাডায় নেওয়ার আবেদন স্থগিত
খামেনির জানাজায় শরিক হয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর







