ভারতে এক কামড়েই রসনাতৃপ্তি দেওয়া খাবারগুলোর মধ্যে পানিপুরি অন্যতম। তবে এই খাবারের উৎপত্তি ঠিক কোথায়, তা নিয়ে মতভেদের শেষ নেই। ক্রিকেট দলের সমর্থন নিয়ে যেমন তর্ক জমে ওঠে, পানিপুরির ইতিহাস নিয়েও একেকজনের জবাব ঠিক তেমনই একেক রকম। তবে মুখরোচক এই স্ট্রিট ফুডের উৎসের পেছনে ছড়িয়ে থাকা নানা গল্পের মধ্যে একটি পৌরাণিক কাহিনী বেশ নাটকীয়, যেখানে জড়িয়ে রয়েছেন মহাভারতের পাঞ্চাল রাজকন্যা দ্রৌপদী।
অমর চিত্র কথা’র সূত্র অনুযায়ী, পান্ডবদের দীর্ঘ নির্বাসনের সময় সদ্যবিবাহিত দ্রৌপদীকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিলেন তার শাশুড়ি কুন্তী। দ্রৌপদীর বুদ্ধিমত্তা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই করতে কুন্তী তার হাতে সামান্য কিছু বেঁচে যাওয়া আলুর তরকারি এবং একটি মাত্র ছোট রুটি বানানোর মতো গমের খামির তুলে দেন। নির্দেশ ছিল, এই সামান্য উপকরণ দিয়েই যেন পাঁচ পান্ডব ভাইয়ের ক্ষুধা মেটে।
যে কারও জন্যই এটি এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ হতে পারত। তবে দ্রৌপদী দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন না। সেই সামান্য খামির দিয়ে একটি মাত্র রুটি না বানিয়ে তিনি তা থেকে ছোট ছোট কয়েকটি ভাগ করে তেলের মধ্যে ভেজে ফুলিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর সেগুলোর ভেতরে আলুর পুর ভরে পরিবেশন করেন। যা ছিল মাত্র এক মুখের খাবার, দ্রৌপদীর বুদ্ধিমত্তায় তাতেই মিটেছিল পাঁচ ভাইয়ের ক্ষুধা।
গল্পে বলা হয়, দ্রৌপদীর এই উদ্ভাবনী ক্ষমতায় অভিভূত হয়ে কুন্তী খাবারটিকে এক ধরনের অমরত্বের বর দিয়েছিলেন।
দ্রৌপদীর এই গল্পটি শুনতে চমৎকার হলেও ইতিহাসবিদরা পানিপুরির উৎসের পেছনে ভিন্ন এবং কিছুটা বাস্তবতাভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করেন। তাদের মতে, এই খাবারের উৎপত্তি প্রাচীন মগধ সাম্রাজ্যে (যা বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যে অবস্থিত)। ধারণা করা হয়, উপমহাদেশে নানা ধরনের নোনতা খাবার ও ফারসান-এর বিকাশের সময়েই পানিপুরির সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রাচীনকালে এই খাবারের নাম ছিল ‘ফুলকি’। মজার বিষয় হলো, ভারতের কিছু অঞ্চলে আজও পানিপুরিকে ফুলকি বলা হয়। তবে প্রাচীনকালের সেই ফুলকি আজকের চেনা পানিপুরি থেকে কিছুটা আলাদা ছিল। এর পুরিগুলো ছিল তুলনামূলক ছোট ও বেশি মুচমুচে, যদিও তখন ভেতরে কী পুর দেওয়া হতো তা আজও রহস্যই রয়ে গেছে।
তবে মহাভারতের গল্পের মতো ঐতিহাসিক নথিতে ‘ফুলকি’ উদ্ভাবক হিসেবে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম পাওয়া যায় না। কে প্রথম খামিরের ছোট লেচি ভেজে মচমচে ফাঁপা গোলক বানিয়েছিলেন, তার কোনও লিখিত প্রমাণ ইতিহাসে নেই।
বনবাসে দ্রৌপদীর বুদ্ধিমত্তায় এর সূচনা হোক কিংবা প্রাচীন মগধের বাজারে রান্নার ধীরে ধীরে বিবর্তন, আজ পানিপুরি তার সীমান্ত পেরিয়ে নানা নামে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের উত্তরাঞ্চলে এটি গোলগাপ্পা, কলকাতায় ‘ফুচকা’, ওড়িশায় ‘গুপচুপ’ এবং উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশে ‘বাতাশে’ নামে সমাদৃত।
সূত্র: এনডিটিভি

ভারতের ‘চকলেট শহর’ কোনটি
জেন-জিদের সংসার ভাঙছে এআই
ট্রাম্প কি ভুল করছেন, নাকি এটাই ছিল বড় পরিকল্পনা?







