সাধারণ সভা আহ্বানকে কেন্দ্র করে কলকাতার যাদবপুর বিশ্বিবদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ১২ ঘণ্টা পরও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও কলকাতার রাস্তায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষই ক্যাম্পাসে বহিরাগত এনে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
বুধবার রাতে ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভা চলার সময় কথা-কাটাকাটির জেরে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এবিভিপি এবং বামপন্থি সংগঠন এসএফআই, ডিএসএফ, ডিএসও-এর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদেরকে চিকিৎসার জন্য কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রশাসনিক ভবন অরবিন্দ ভবন-এ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং কাচের বোতল নিক্ষেপ করা হয় বলে বাম ছাত্ররা অভিযোগ করেছেন। বাম সংগঠনগুলোর দাবি, এবিভিপির বহিরাগতরা এই আগুন লাগায় এবং প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর নকশা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রতীকের ক্ষতিসাধন করে। এবিভিপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, সভার কোনও বৈধতা ছিল না এবং বামপন্থিরাই তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দক্ষিণ কলকাতা থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যায় এবিভিপি সমর্থকরা। মিছিলে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। চরম উত্তেজনার মধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের দেখতে এসে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সর্বরী মুখোপাধ্যায় বাম সংগঠনগুলোকে দায়ী করে বলেন, যাদবপুর যদি কেউ মাওবাদী, নকশাল ও দেশবিরোধীদের স্বর্গরাজ্য মনে করে, তবে তারা ভুল ভাবছে। আমরা প্রতিটি দেশবিরোধী শক্তিকে খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
তবে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, এক ঘণ্টার মধ্যে সারেন্ডার না করলে তুলকালাম ঘটার মতো তার উসকানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য এই ঘটনা থেকে দলকে দূরে সরিয়ে রেখে জানান, এবিভিপি বিজেপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এবং তাদের কোনও কাজের দায়ভার দল নেবে না।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
বাসের দরজায় গলা আটকে গুজরাটে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু







