ব্রিটেনের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস বলেছেন, প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য ইউক্রেনে ব্রিটিশ সেনাদের মোতায়েনের বিষয়ে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে কিয়েভে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন শ্যাপস। তিনি বলেছেন, যে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা যুক্তরাজ্য ও অপর ন্যাটো দেশের সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনবে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে সমর্থন করছে আরও দশটি দেশ। এই প্রশিক্ষণে ২৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি নতুন সেনা সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই বছরের শেষ নাগাদ ৩০ হাজারের বেশি সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
সানডে টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্যাপস বলেছেন, কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার আক্রমণ থেকে বাণিজ্যিক নৌযানকে রক্ষায় কীভাবে ব্রিটিশ নৌবাহিনী সহযোগিতা করতে পারে তা নিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
ব্রিটিশ চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ জেনারেল স্যার প্যাট্রিক স্যান্ডার্স ও অপর সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর শ্যাপস বলেছেন, আমি কথা বলেছি প্রশিক্ষণ ইউক্রেনের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য, মূলত ইউক্রেনে। বিশেষ করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে। আমার মনে হয় এখন দেশটিতে আরও অনেক কিছু নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে–শুধু প্রশিক্ষণ নয়, আমরা দেখছি বিএই (ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি) উৎপাদন কারখানা তৈরি করছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের মাইন, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, কার্গো জাহাজ লক্ষ্য করে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনকে সহযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটেন।
এর আগে ফ্রান্সের সামরিক বাহিনী বলেছে, কৃষ্ণ সাগরে তাদের উড়োজাহাজ নজরদারি চালাচ্ছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনকে ২৩০ কোটি পাউন্ড সামরিক সহযোগিতা দিয়েছে ব্রিটেন। ২০২৩ সালেও কাছাকাছি অঙ্কের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।








