রাশিয়া বলছে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার শিবিরে ইউক্রেন ইস্যুতে রণক্ষেত্রের বাস্তবতা স্বীকারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রাশিয়া এটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে এবং ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাধানের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প ইউক্রেন সংকট সমাধানের যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন, মস্কো তা পর্যালোচনা করতে প্রস্তুত।
ল্যাভরভ জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন ইস্যুতে ‘বাস্তবতার’ কথা উল্লেখ করতে শুরু করেছে, যা ইতিবাচক অগ্রগতি।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের ব্যাপারে তারা উন্মুক্ত। ট্রাম্প সোমবার বলেছিলেন, এ বৈঠক খুব শিগগিরই হতে পারে।
ট্রাম্পের পরামর্শদাতা মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, রাশিয়াকে ইউক্রেন থেকে পুরোপুরি সরানো সম্ভব নয়, এমনকি ক্রিমিয়া থেকেও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বাস্তবতা স্বীকার করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত মস্কো। তবে রাশিয়া তার পশ্চিম সীমান্তের নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করার নিশ্চয়তা দাবি করবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কিয়েভের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কার্যকর হবে না। ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানের প্রশ্নে রাশিয়া তার বিরোধিতার অবস্থানে অনড় এবং এটি ঠেকাতে যুদ্ধের পথে গেছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদান রাশিয়ার জন্য সীমান্ত নিরাপত্তা হুমকি হতে পারে। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং যেকোনও শান্তিচুক্তিতে এই বাস্তবতাকে মান্য করতে হবে বলে মস্কো দাবি করেছে।
গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ল্যাভরভ বলেন, গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এটি ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল হলেও গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।









