লেবাননে একটি যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দ সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে বসেছে ইরান, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে বর্তমানে আলোচনার নির্ধারিত ভেন্যুতে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনার কোনও পক্ষ ছিল না ইসরায়েল। লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিকে এই চুক্তির অংশ করার যেকোনও প্রচেষ্টাকেই শুরু থেকে প্রতিহত করে আসছে তেল আবিব।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে আলোচনা প্রক্রিয়ার ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লেবাননে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি সম্মান ও রক্ষা না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।
ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, যতক্ষণ না ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সংক্রান্ত ছাড়পত্র জারি করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধই থাকবে।
একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ সম্পূর্ণ শেষ না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী কোনও বৃহত্তর চুক্তির আলোচনায় প্রবেশ করবে না।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রাথমিক চুক্তির একটি ধারার কথা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, এই শর্তগুলোর বাস্তবায়ন ছাড়া, বিশেষ করে অনুচ্ছেদ ১ নিশ্চিত করা না হলে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনার মূল পর্বে প্রবেশ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
সুইজারল্যান্ডের এই আলোচনার স্থান থেকে সরাসরি এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদেরকে বহুবিধ সমস্যার একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষমতা দিয়েছেন।
ভ্যান্স আরও বলেন, মূল প্রশ্নটি হলো, আমরা মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্কগুলোকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারি কি না।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিরতার মূল চালিকাশক্তি’ হিসেবে দায়ী করে এর সমালোচনা করেন ভ্যান্স। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, বিগত কয়েক ঘণ্টায় আলোচনার টেবিলে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, বর্তমানে দুই দেশই এমন একটি যৌথ ভবিষ্যৎ দেখছে যেখানে সবাই মিলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।
তিনি আরও জানান, ইরানের জনগণের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভোল পাল্টে দিতে ট্রাম্প তাদের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল









