একটি বিশালাকার ও ওজনদার গাড়িকে খাড়া পাহাড়ি সংকীর্ণ রাস্তায় প্রচণ্ড গতিতে ছুটিয়ে দেওয়া আর ভালুককে সাইকেল চালানো শেখানো হয়তো একই কথা। তবে ইংল্যান্ডের গুডউড ফেস্টিভ্যাল অব স্পিডে ঠিক সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালো বিলাস বহুল ব্রিটিশ অটোমোবাইল ব্র্যান্ড বেন্টলি।
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম সাসেক্সের গুডউড এস্টেটের প্রায় এক মাইলের খাড়া ও নয়টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকযুক্ত রাস্তায় আড়াই টনেরও বেশি ওজনের (৫ হাজার ৪২১ পাউন্ড) নতুন বেন্টলি কন্টিনেন্টাল জিটি এস গাড়ি নিয়ে গতির জড়তা ভাঙার অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছেন ব্র্যান্ডটির চ্যাসিস ডায়নামিক্স বিভাগের প্রধান ক্রেগ নিকোলসন।
৬৭১ হর্সপাওয়ারের হাইব্রিড-ভি৮ ইঞ্জিন এবং অল-উইল ড্রাইভ সুবিধা সম্বলিত এই বিলাসবহুল গাড়িটির ভিত্তিমূল্য প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ১৫০ ডলার। শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতি তুলতে বেন্টলির এই ভারী গাড়িটির সময় লাগে মাত্র ৩.৩ সেকেন্ড এবং এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৯১ মাইল।
চার দিনের এই মোটরস্পোর্টস উৎসবে অডি, জাগুয়ার, বিএমডব্লিউ কিংবা টয়োটার অপেক্ষাকৃত ছোট ও হালকা স্পোর্টস কারগুলোর পাশে ৫ হাজার ৪২১ পাউন্ড ওজনের এই দৈত্যাকার গাড়িটি নিয়ে ট্র্যাকে নামেন ক্রেগ। ৪ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ৬০ মাইল গতিতে ছুটে চলা এবং খাড়া বাঁকে চাকার স্লাইড সামলে বেন্টলিকে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার পেছনে রয়েছে অল-উইল স্টিয়ারিং, টর্ক ভেক্টরিং অ্যাক্সেল, অ্যাক্টিভ রোল কন্ট্রোল এবং রিয়েল-টাইম ড্যাম্পিং প্রযুক্তির দারুণ সমন্বয়।
জার্মানির বিখ্যাত নুরবুর্গরিং ট্র্যাকে বেন্টলির নিখুঁত ভারসাম্য তৈরিতে বহু সময় কাটানো ৩৮ বছর বয়সী প্রকৌশলী ক্রেগ নিকোলসনের মতে, গাড়িতে চালকের কোনও শারীরিক অস্বস্তি না এনে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাটাই তাদের ব্র্যান্ড ডিএনএ-র মূল ভিত্তি।
এমন এক বিশালাকার গাড়িতে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতেও চালক ক্লান্তি অনুভব করেন না, বরং মনে হয় যেন ‘টাইম ট্রাভেল’ করছেন। আর এতে গতি ও আরামের এক চরম অনুভূতি তৈরি হয়, যাকে তিনি এক কথায় আখ্যা দিয়েছেন অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির আরও কাছাকাছি চীন
জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি







