বলিউডের কোনও সিনেমার গল্পের মতো শুনালেও ঘটনাটি একেবারেই বাস্তব। জন্মসূত্রে ভারতীয় এবং ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে মুম্বাইয়ের পৃথক দুটি এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া দুই নারী চার দশক পর জানতে পেরেছেন তারা আসলে রক্তের সম্পর্কিত বোন। নেদারল্যান্ডসে আলাদা পরিবারে বড় হওয়া এই দুই নারীর পরিচয় উন্মোচনে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে একটি ডিএনএ টেস্ট।
বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী মীনা গেলটিঙ্ক এবং ৪৪ বছর বয়সী মিনাল টিজসেনের প্রথম দেখা হয়েছিল কৈশোরে, দত্তক নেওয়া সংস্থা আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে। প্রথম দেখাতেই চেহারার অদ্ভুত মিল দেখে তারা অবাক হন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে মীনা বলেন, আমাকে দেখে বন্ধুরা বলছিল যে আয়নায় গিয়ে দেখতে। আমি ভেবেছিলাম, ওহ ঈশ্বর, ওর নাক তো একদম আমার মতো! আমাদের হাসিও এক। সে দিন রাতের খাবার খাওয়ার সময় আমি পুরোটা সময় ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।
পরদিনই ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময় করে চিঠিপত্র লেখা শুরু করেন তারা। চিঠিতে একে অপরকে ভালোবেসে ‘বোন’ বলে ডাকতেন। তবে ১৫ বছর আগে মিনাল ফ্রান্সে চলে যাওয়া এবং মীনা মা হওয়ার পর ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২০১৭ সালে ভারতীয় দত্তকপ্রাপ্তদের এক সভায় গিয়ে ডিএনএ টেস্ট সম্পর্কে জানতে পেরে পরীক্ষা করান মীনা, তবে দীর্ঘদিন কোনও মিল খুঁজে পাননি। পরবর্তীতে চলতি বছরের মে মাসে মিনাল ফেসবুকে তাকে মেসেজ পাঠিয়ে এপ্রিল মাসে করানো তার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টটি যুক্ত করে দেন।
রিপোর্ট পরীক্ষা করতেই দেখা যায় তাদের ডিএনএ ‘শতভাগ ম্যাচ’ করেছে। যার অর্থ, তারা একই বাবা-মায়ের সন্তান। মীনা বলেন, মনে হলো শরীরে অ্যাড্রেনালিনের ঝাপটা লাগল, কেঁদে ফেললাম। মিনাল আমার হৃদয়ের হারিয়ে যাওয়া সেই অংশ ছিল, যার জন্য আমি এতদিন অপেক্ষা করছিলাম। আমরা অবচেতনভাবেই একে অপরকে বোন ডাকতাম, ডিএনএ টেস্ট কেবল আমাদের সেই অনুভূতির সত্যতা প্রমাণ করল।
তিন সন্তানের জননী মীনা এবং দুই সন্তানের জননী মিনাল গত আগস্টে একটি রোদঝলমলে দিনে একে অপরের সঙ্গে প্রথমবার বোন হিসেবে দেখা করেন। আবেগঘন এই পুনর্মিলনীতে ছিল অশ্রু, কোলাকুলি ও হাসি। ফ্রান্সে বসবাসকারী মিনাল বলেন, আমরা বোন হওয়ার আগেই বান্ধবী ছিলাম। এতদিন আমরা বোন হিসেবেই পাশে ছিলাম, কিন্তু সেটা জানতাম না।
বর্তমানে প্রতিদিন নিয়ম করে কথা বলছেন দুই বোন, দেখা করিয়েছেন নিজ নিজ পরিবার ও সন্তানদের সঙ্গেও। মীনা জানান, তাদের পরবর্তী ইচ্ছা হলো মুম্বাইয়ের রাজপথে দুই বোন একসঙ্গে হেঁটে চলা, যেখানে সবকিছুর সূচনা হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি

হুথি হামলায় সৌদি পাইপলাইন বন্ধ, হুমকিতে ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা কমছে, নতুন করে ভাবছে বিশ্ব







