স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অ্যালগরিদমের আধিপত্যের আগের শেষ দশক ছিল নব্বইয়ের দশক। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও কার্গো প্যান্ট, স্লিপ ড্রেস বা ক্যাট মসের র্যাম্পে ফেরা; সবকিছুতেই ঘুরপাক খাচ্ছে সেই যুগের আমেজ। ইন্টারনেট-পূর্ববর্তী সেই ‘বাস্তব জীবনের’ প্রতি বর্তমান প্রজন্মের আকর্ষণের কারণ উদঘাটন করতে লন্ডনের টেট ব্রিটেনে শুরু হয়েছে ‘দ্য নাইনটিজ: আর্ট অ্যান্ড ফ্যাশন’ শীর্ষক এক প্রদর্শনী।
যুক্তরাজ্যের তৎকালীন গ্রিটি ও ডিআইওয়াই (ডি-ইট-ইউরসেলফ) সৃজনশীল চেতনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন ব্রিটিশ ভোগ-এর সাবেক সম্পাদক ইন চিফ এডওয়ার্ড এন্নিনফুল। এতে নব্বইয়ের দশকের ১০০টিরও বেশি ছবি, ভাস্কর্য ও পোশাক স্থান পেয়েছে।
স্মার্টফোন-পূর্ব যুগের কথা স্মরণ করে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এডওয়ার্ড এন্নিনফুল বলেন, তরুণরা নব্বইয়ের দশকের সঙ্গে এতটা যুক্ত হতে পারে কারণ তারা মনে করে এটিই ছিল শেষ খাঁটি সময়, যখন আপনি বাইরে গিয়ে যা খুশি তা-ই করতে পারতেন এবং কেউ আপনাকে ক্যামেরাবন্দি করার সুযোগ পেত না।
তিনি নিজের স্মৃতি থেকে আরও বলেন, আমরা ক্লাবিং শেষ করে সরাসরি কাজে চলে যেতাম। সামান্য পারফিউম স্প্রে করে কাজ শুরু করতাম বা সোফায় ঘুমাতাম, ওটাই ছিল আমাদের জীবন।
প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে অননুকরণীয় কিশোরী ক্যাট মসের প্রাথমিক কিছু অগোছালো ছবি এবং আলোকচিত্রী জারগেন টেলারের লন্ডনের স্টুডিওতে নতুন মুখ খোঁজার নানা চিত্র। নিজের কাজ সম্পর্কে টেলার ইমেইলে জানান, আমার কাছে বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় মানুষ দেখাটাই ছিল চমৎকার। নতুন মুখ খোঁজার প্রক্রিয়াকে আমি সর্বজনীন করতে চেয়েছিলাম। সবাইকে আমি একই পরিমাণ মনোযোগ ও সময় দিতাম।
নব্বইয়ের দশকের ক্যাফে ও নাইটক্লাবের উত্তাল আবহ তুলে ধরেছেন ডিজে ও আলোকচিত্রী নরমেস্কি। বর্তমানের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সমালোচনা করে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিস্থিতির একজন দর্শক হওয়ার চেয়ে সেই দৃশ্যের অংশ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান আন্ডারগ্রাউন্ড সংস্কৃতির বিলুপ্তি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে এখন কোনও আন্ডারগ্রাউন্ড ক্ষেত্র নেই, কারণ সবকিছুই প্রকাশ্য, এই একটি শব্দ আমি ভীষণ ঘৃণা করি। আমরা দীর্ঘস্থায়ী হতে পেরেছিলাম কারণ আমরা নিজেকে বিক্রি করিনি, আমরা কেবল সৃষ্টি করেছি।
ডিজিটাল আর অ্যানালগ প্রযুক্তির একটি নিখুঁত ভারসাম্য ছিল নব্বইয়ের দশকে। নস্টালজিয়া বিশেষজ্ঞ মনোবিজ্ঞানী ক্লে রুটলেজ জানান, আজকের জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা প্রযুক্তির সঙ্গে আরও সুচিন্তিত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এটি প্রযুক্তির প্রত্যাখ্যান নয়, বরং সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা।
মনোবিজ্ঞানী রুটলেজ মনে করেন, এই নস্টালজিয়া তরুণদের উদ্ভাবনে সাহায্য করছে, যা তাদের কাছে নতুন ভাবনার উৎস।
তবে সাংবাদিক ড্যানা থমাস ফ্যাশনে নব্বইয়ের দশকের বারবার ফিরে আসাকে সৃজনশীলতার অভাব হিসেবে দেখেন। তার মতে, ফ্যাশন হাউসগুলো দ্রুতগতির ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে পেছনের ধারণাই পুনর্ব্যবহার করছে। তা ছাড়া, হিরোইন চিক-এর মতো ক্ষতিকর প্রবণতাও সেই সময়ে ছিল।
অন্যদিকে, বৈষম্যের কথা তুলে ধরে এন্নিনফুল বলেন, নব্বইয়ের দশকে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে আমি শিল্পখাতে অল্প কয়েকজন মানুষের একজন ছিলাম।
তবে সেই যুগে শুরু হওয়া বর্ণ, পরিচয় ও যৌনতা বিষয়ক আলোচনাগুলো আজও সমান প্রাসঙ্গিক। শিল্পী ভিনকা পিটারসেন বলেন, বর্তমান তরুণদের ওপর চাপ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের মতো প্রারম্ভিক প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার যে স্বাধীনতা ছিল, তা তাদের নেই।
সূত্র: সিএনএন
ক্যানসার ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে ভারতে
তীব্র হচ্ছে সৌদি-হুথি যুদ্ধ, জড়াচ্ছে সিরিয়া-তুরস্ক-পাকিস্তান
পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবে সেনা পাঠাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান