ভারতের ছত্তিশগড়ে প্রাণঘাতী হামলার পর অপহৃত সেনা সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে মাওবাদী বিদ্রোহীরা। হামলার প্রায় একশ’ ঘণ্টা পর ওই সেনা সদস্য মুক্তি পেয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে রাজ্য সরকার। শত শত গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে রাকেশ্বর সিং মানহাস নামে এই সেনা সদস্যকে রাজ্য সরকারের গঠিত একটি টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে বিজাপুর জেলার একটি হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত শনিবার বিজাপুর জেলায় মাওবাদী বিদ্রোহীদের সঙ্গে এক সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ভারতের ২২ সেনা সদস্য। এছাড়া আহত হয় আরও ৩১ জন। ওই ঘটনার পর রাকেশ্বর সিং মানহাস নামের এক সেনা সদস্যকে অপহরণ করে মাওবাদীরা। ২১০তম কমান্ডো ব্যাটেলিয়ন ফর রেজুলেট অ্যাকশন (কোবরা) টিমে কর্মরত এই সেনা সদস্যকে অপহরণ করা হয়।
ওই সেনা সদস্যকে ছাড়িয়ে আনার আলোচনার জন্য একটি টিম গঠন করে রাজ্য সরকার। এতে সাত জন সাংবাদিক, দুই জন প্রখ্যাত ব্যক্তি এবং ছত্তিশগড় সরকারের দুই কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার ওই সেনা সদস্যকে মুক্তি দেয় মাওবাদীরা।
জম্মুর বাসিন্দা এই সেনা সদস্যের মুক্তির পর তাকে বিজাপুরে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) তারেম ক্যাম্পে নেওয়া হয়। রাকেশ্বর সিং মানহাসের স্ত্রী মিনু বলেন, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন। আমি সবসময়ই তার ফিরে আসা নিয়ে আশাবাদী ছিলাম।‘
উল্লেখ্য, চীনা বিপ্লবের নেতা মাও সেতুং-এর অনুপ্রেরণায় চার দশকের বেশি সময় ধরে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে মাওবাদীরা। বর্গা চাষী, দরিদ্র ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য জমি ও কাজের দাবিতে তাদের এই সশস্ত্র লড়াই। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মাওবাদীদের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে ঘোষণা করেছে দিল্লি। কয়েক হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা নিয়ে ছত্তিশগড়ের বিশাল পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে মাওবাদীরা।









