ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত ওয়াকফ বিল পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:২৪আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:৩০

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মুসলিম দানকৃত সম্পত্তি বা ওয়াকফ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের জন্য একটি বিতর্কিত বিল পাস করেছে। বুধবার (২ এপ্রিল) গভীর রাতে বিতর্কিত ওয়াক্ফ বিলটি লোকসভায় পাস হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ২৮৮ ভোট, বিপক্ষে ২৩২টি। আজ বৃহস্পতিবার বিলটি পেশ করা হচ্ছে রাজ্যসভায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

নতুন ওয়াকফ বিলটি ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সরকারের ভূমিকা বাড়াবে, বিশেষ করে ওয়াকফ সম্পত্তির মালিকানা যাচাইয়ে। ওয়াকফ বলতে ব্যক্তিগত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তিকে বোঝায়, যা মুসলমানরা ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে স্থায়ীভাবে দান করে।

বিরোধীদের সম্মিলিত দাবি, এই বিল দেশের সংবিধানবিরোধী। এর মধ্য দিয়ে সরকার মুসলমানদের ধর্মাচরণে হস্তক্ষেপ করছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন জানিয়ে দিয়েছেন, বিলটি আইন হলে সেটার বিরুদ্ধে তার দল ডিএমকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করবে। শুধু ডিএমকেই নয়, অন্য বিরোধী দল এবং সংগঠনও এই বিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে।

মোদি সরকারের বিজেপি দল দাবি করছে, ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনে এই পরিবর্তন আনা হলে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধ করা যাবে এবং বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে।

কিন্তু ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের আশঙ্কা, এই আইনের ফলে ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো--ঐতিহাসিক মসজিদ, দোকান, দরগা, কবরস্থান ও হাজার হাজার একর জমি--বাজেয়াপ্ত, দখল বা ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়বে।

লোকসভায় বিলটি নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়। বিরোধী কংগ্রেস বিলটিকে অসাংবিধানিক ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা পাস হলে বিলটিকে প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে এবং তার সম্মতি পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী সংসদীয় দলের বৈঠকে সবাইকে সতর্ক করে বলেন, দেশকে বিজেপি ক্রমেই এক গভীর খাদের কিনারে দাঁড় করাচ্ছে। বারবার তারা সংবিধানের অমর্যাদা করছে। আলোচনার নামে বুলডোজার চালাচ্ছে সরকারি সিদ্ধান্ত কায়েম করতে। ওইভাবে তারা গতকাল বুধবার লোকসভায় ওয়াক্ফ বিল পাস করিয়েছে। রাজ্যসভায়ও তা করাতে চলেছে।

সোনিয়া গান্ধী বলেন, এটা সংবিধানের ওপর খোলাখুলি আক্রমণ। বিজেপি চায় দেশ ও সমাজকে পাকাপাকিভাবে বিভক্ত রাখতে।

তবে লোকসভার মতো রাজ্যসভায়ও শরিকি সাহায্যে বিলটি উতরে যাবে। রাজ্যসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর পক্ষে রয়েছে ১২৫ জনের সমর্থন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্যরাও রয়েছেন। তুলনায় বিরোধী শিবিরে রয়েছে ৮৮ সদস্য। বিরোধীরা ভেবেছিল, অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি ও বিহারের দুই শরিক জেডিইউ ও এলজেপি মুসলিম সমর্থন হারানোর ভয়ে ওয়াক্ফ বিল সমর্থন করবে না। হয় ভোটদানে বিরত থাকবে, নয়তো ওয়াক আউট করবে। কিন্তু তা হয়নি। তিন দলই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

/এস/
সম্পর্কিত
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
সর্বশেষ খবর
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান