ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিলের ওপর ভোট হতে যাচ্ছে মার্কিন সিনেটে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলটি পাস হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে। 

ইউক্রেনে আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে এবং রুশ কর্মকর্তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাশিয়ান তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা সম্ভব হবে।  

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারতের মতো দেশগুলো ছাড়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বহুগুণ বাড়িয়েছে। বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হলে নয়াদিল্লির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বিলে বলা হয়েছে, ভারত, চীন, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের মতো রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে মস্কোর প্রধান আয়ের উৎস রুশ তেল ও গ্যাস কেনা থেকে দেশগুলোকে নিরুৎসাহিত করা।

তবে বিলটি এখনও আইন হওয়ার পথে বেশ কয়েকটি ধাপ বাকি রয়েছে। মঙ্গলবার সিনেটে যে ভোট হবে, সেটি কেবল প্রক্রিয়াগত। এরপর বিলটি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই অনুমোদন পেতে হবে। তারপর তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাবে।

আইনে পরিণত হলেও প্রস্তাবিত শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। বিল অনুযায়ী, কখন এবং আদৌ এসব শুল্ক আরোপ বা প্রত্যাহার করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।

রয়টার্স বলছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে পরিবর্তনের পর ভারত রুশ অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। ছাড়মূল্যে রুশ তেল কেনার ফলে ভারতীয় পরিশোধন শিল্প কম দামে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে পেরেছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ও পরিশোধন মার্জিনে সহায়তা করেছে।

তবে প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হয়ে শুল্ক আরোপ করা হলে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের চলমান বাণিজ্য আলোচনায়ও এর নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

বর্তমানে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে পরিচিত বিলটি শুধু রাশিয়ার জ্বালানি আয়কে লক্ষ্যবস্তু করছে না, বরং ইরান-সংক্রান্ত ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এর লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়ন কমিয়ে আনা এবং একই সঙ্গে ইরানের সন্ত্রাসবাদে সহায়তা ও পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা সীমিত করা।

যদিও ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করার অনুরোধের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তবু কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিলটি প্রেসিডেন্টকে ব্যাপক নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও প্রভাবিত করতে পারে এবং মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।

/এএস/ 
সম্পর্কিত
রূপপুরের অর্থ পরিশোধ রুপিতে করার প্রস্তাব রাশিয়ার, ঢাকা-মস্কো সম্পর্কে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
ট্রাম্পের সঙ্গে ‘চমৎকার’ বৈঠক, ইরান যুদ্ধ নিয়ে যা বললেন নেতানিয়াহু
কিউবায় ‘বিপ্লব অবসানের’ অপেক্ষায় ফিদেল কাস্ত্রোর মেয়ে
সর্বশেষ খবর
সরোয়ার আলমগীরের সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে বাধা নেই: আপিল বিভাগ
রূপপুরের অর্থ পরিশোধ রুপিতে করার প্রস্তাব রাশিয়ার, ঢাকা-মস্কো সম্পর্কে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
গুগল ম্যাপের আরও স্মার্ট ব্যবহার: জেনে নিন ৬ কার্যকর ফিচার
ট্রাম্পের সঙ্গে ‘চমৎকার’ বৈঠক, ইরান যুদ্ধ নিয়ে যা বললেন নেতানিয়াহু
সর্বাধিক পঠিত
মেসির ৩ ছেলের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো ফুটবলার হতে পারে?
ইরানের ‘মশা নৌবহরের’ প্রশংসায় পুতিন, বললেন যুদ্ধে বেশ কার্যকর
ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: তিন খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা