ভারতে আগামী দুই সপ্তাহ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে চলে আসায় দেশজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল (আইওডি) এখনও নিরপেক্ষ অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, ভারতীয় মৌসুমি বৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে এমন তাপমাত্রার ধরনে এখনও ভারত মহাসাগর প্রবেশ করেনি।
বর্তমানে পূর্বাঞ্চলীয় ক্রান্তীয় ভারত মহাসাগরের বায়ুপ্রবাহ গঠিত হচ্ছে ক্রান্তীয় পশ্চিমা বাতাস, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের টাইফুনের প্রভাব এবং শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনোর সম্মিলিত প্রভাবে। ইতিবাচক আইওডির সঙ্গে সম্পর্কিত দক্ষিণ-পূর্ব দিকের বাণিজ্যিক বায়ু এখনও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে পূর্ব ভারত মহাসাগরে বজ্রঝড়ের তৎপরতা এখনও জোরালো রয়েছে, যা বায়ুমণ্ডলের উচ্চ সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভারত মহাসাগরের আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এখানকার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহে এল নিনোর প্রভাব আরও বাড়লে ইতিবাচক আইওডি গঠিত হতে পারে, যা সাধারণত ভারতীয় মৌসুমি বৃষ্টিতে এল নিনোর বিরূপ প্রভাবের কিছুটা ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করে।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়া ও জাভা দ্বীপের আশপাশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। মৌসুমি ‘আপওয়েলিং’ প্রক্রিয়ার কারণে গভীর সমুদ্রের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পানি ওপরে উঠে আসায় এ পরিবর্তন ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের সঙ্গে এই শীতলতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ভারতের বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতিও বৃষ্টিপাতের জন্য ক্রমেই অনুকূল হয়ে উঠছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর ও পূর্ব ভারতে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিবাহী আবহাওয়া ব্যবস্থা আরও সক্রিয় হচ্ছে। একই সঙ্গে ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশন (এমজেও) দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের ওপর মেঘ গঠনের অনুকূল পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
এসব উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে আগামী দুই সপ্তাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় মৌসুমি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে ভারত মহাসাগর এখনও ইতিবাচক আইওডি পর্যায়ে প্রবেশ না করায়, ২০২৬ সালের বাকি মৌসুমি বৃষ্টির পরিস্থিতি নির্ধারণে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনশীল অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

ইন্টারনেট গতিতে তলানির দিকে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক
পাকিস্তানে আল জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ, নেপথ্যে যে কারণ






