শনিবার (০১ নভেম্বর) জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি যুদ্ধজোটের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইয়েমেনের সামনে অপেক্ষা করছে অত্যন্ত বড় এক বিপর্যয়। তা রুখে দিতে দরকার ত্রাণ সরবরাহের জন্য হুদাউদাহ বন্দর সচল রাখা। জাতিসংঘ বন্দরটির কার্যক্রম সচল রাখতে হস্তক্ষেপে প্রস্তুত। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে মানুষ প্রাণধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নূন্যতম খাদ্যও পাচ্ছে না। জাতিসংঘের দৃষ্টিতে, ইয়েমেনে চলা বিপর্যয় বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক দুর্যোগ। হুদাইদাহর দখল নেওয়ার জন্য যুদ্ধ চলতে থাকায় ত্রাণ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। হুথি ও সালেহ জোট রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে নির্বাসনে যান। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে হামলা চালানো শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য, দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ হিসেবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবু রাব্বু মানসুর হাদির সরকারকে স্থিতিশীল করা।
মার্ক লোকক জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর দ্য কো অর্ডিনেশন অব হিউমেনিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্সের’ প্রধান। তিনি ইয়েমেন সফরে গিয়েছিলেন। সফর সমাপ্তের পর তিনি মন্তব্য করেছেন, গত অক্টোবরে যে অবস্থা দেখেছিলেন, নভেম্বরে এসে পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক বেশি খারাপ হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘ইয়েমেন অনেক বড় বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। আমি সেখানে অনাহারে থাকা এমন শিশু দেখছি যারা রুগ্নতার কারণে ঠিকমতো চোখের পাতা মেলতে পারছে না।’
লোকক এসব কথা যখন বলেছেন তখন, হুদাইদাহ বন্দরের দখল নিতে হুথি বিদ্রোহী ও সরকার সমর্থিত বাহিনীর প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়েছে। হুদাইদাহ বন্দর ইয়েমেনে ত্রাণ সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্ক লোককের ভাষ্য, হুদাইদাহ বন্দরকে কার্যকর রাখতে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের বিষয়ে প্রস্তুত জাতিসংঘ।
এএফপি লিখেছে, আন্তর্জাতিক চাপে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে হামলা করা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু গত ১৩ নভেম্বর থেকে খণ্ডযুদ্ধ আবার শুরু হয়েছে। শুক্রবারের যুদ্ধে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহত আট হুথি বিদ্রোহীর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়েছে। নিহত অপর দুইজন সরকার সমর্থিত বাহিনীর যোদ্ধা।







