X
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
২ শ্রাবণ ১৪৩১

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ উত্তেজনা বাড়ছে, বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জুন ২০২৪, ২৩:৪৫আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪, ২৩:৪৫

ইসরায়েল ও লেবাননের ইরান-সমর্থিত ইসলামিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সীমান্তে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাতের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে চলেছে। এই সংঘাতের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বড় আকারের অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

গত আট মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চললেও সম্প্রতি এটি তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল এখন তার উত্তর ফ্রন্টকে উপেক্ষা করতে পারছে না এবং সেখানে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছে।

লেবানন ও ইসরায়েল কয়েকদশক ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ চালিয়ে রাজধানী বৈরুত পর্যন্ত ট্যাংক পাঠিয়েছিল। লেবাননে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের আক্রমণের পর এটি করেছিল ইসরায়েল। পরে ২২ বছর ধরে দক্ষিণ লেবানন ইসরায়েল দখল করে রাখে। সেখানে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ইসরায়েলকে ওই অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করে।

হিজবুল্লাহ ইরান-সমর্থিত একটি লেবানিজ আন্দোলন। গোষ্ঠীটির মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী রয়েছে। তারা ইসরায়েলকে প্রতিহত করার দায়িত্বে নিয়োজিত এবং বৈরুত ইসরায়েলকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। পশ্চিমা বিশ্বে হিজবুল্লাহকে প্রায়শই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক শত্রুতা শুরু হয় যখন ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫০ জনকে অপহরণ করে। এর পর ইসরায়েল গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ৩৭ হাজারের বেশি বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। হিজবুল্লাহ বলেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত ক্রমাগত বাড়ছে। সংঘর্ষের সংখ্যা এবং আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরাক, সিরিয়া ও লেবানন প্রকল্পের পরিচালক হেইকো উইমেন বলেছেন, এটি একটি ধীর গতির উত্তেজনা যা ক্রমাগত বাড়ছে।

সীমান্তে দুই পক্ষের হতাহতের সংখ্যা এবং হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই সংঘাতের মধ্যে নতুন ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। ৮ জুন হিজবুল্লাহ প্রথমবারের মতো ইরানি তৈরি ফালাক ২ রকেট ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে নিক্ষেপ করে। ফালাক ২ পূর্ববর্তী ফালাক ১ এর উন্নত সংস্করণ। এটির পাল্লা বেশি এবং বড় ওয়ারহেড রয়েছে।

ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে ইসরায়েলি সেনা একটি প্রাচীন অস্ত্র ‘ক্যাটাপল্ট’ ব্যবহার করেছে। যা ১৬তম শতাব্দী থেকে সামরিক বাহিনী দ্বারা খুব কমই ব্যবহৃত হয়েছে। এতে আগুনের গোলা নিক্ষেপ করে লেবাননের ভূখণ্ডে ম্যানগ্রোভ বন পোড়ানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, এটি একটি স্থানীয় উদ্যোগ ছিল এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়নি।

দুই পক্ষই কঠোর বক্তব্য দিয়ে আসছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যদি কেউ মনে করে তারা আমাদের ক্ষতি করতে পারে এবং আমরা নীরব থাকবো, তারা ভুল করছে। যেভাবেই হোক আমরা উত্তরে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবো।

হিজবুল্লাহর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নাইম কাসেম আল-জাজিরাকে বলেছেন, আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধ চাইছি না। কিন্তু যদি তা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, আমরা প্রস্তুত এবং পিছিয়ে যাব না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই পক্ষই হয়ত সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করতে চায় না। তবে তাদের উত্তেজক কর্মকাণ্ড যেকোনও সময় একটি সংঘাতকে উসকে দিতে পারে।

ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চলে রকেট হামলার কারণে বহু ঘরবাড়ি খালি করা হয়েছে। ইসরায়েলি ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইটামার বেন গাভির বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহর সব শক্তিশালী ঘাঁটিকে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে হবে। যুদ্ধ!’

যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়ে উদ্বিগ্ন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, আরও সংঘাত অনিবার্য বলে মনে হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন

/এএ/
সম্পর্কিত
ট্রাম্প হত্যাচেষ্টা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের
ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা কমিয়ে অর্ধেক করবে জার্মানি
হরিয়ানায় অগ্নিবীরদের জন্য পুলিশ ও খনিরক্ষীর চাকরিতে ১০ শতাংশ কোটার ঘোষণা
সর্বশেষ খবর
ট্রাম্প হত্যাচেষ্টা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের
ট্রাম্প হত্যাচেষ্টা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের
কাল সারা দেশে বিক্ষোভ ডেকেছেন চরমোনাই পীর
কোটা-সংস্কার আন্দোলনকাল সারা দেশে বিক্ষোভ ডেকেছেন চরমোনাই পীর
হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
কোটা আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি দেখে সিদ্ধান্ত জানাবে বিএনপি ও যুগপৎ দলগুলো
কোটা আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি দেখে সিদ্ধান্ত জানাবে বিএনপি ও যুগপৎ দলগুলো
সর্বাধিক পঠিত
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা
কী আছে ড. জাফর ইকবালের মূল লেখায়
কী আছে ড. জাফর ইকবালের মূল লেখায়
ছাত্রলীগের ১৫ কর্মীকে ছয়তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
ছাত্রলীগের ১৫ কর্মীকে ছয়তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
রোকেয়া হল ছাত্রলীগের নেত্রীর কক্ষে হামলা, মারধর
রোকেয়া হল ছাত্রলীগের নেত্রীর কক্ষে হামলা, মারধর
ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেতা, লিখলেন ‘আর পারলাম না’
ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেতা, লিখলেন ‘আর পারলাম না’