ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে সপ্তাহান্তে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। রবিবার (৫ জানুয়ারি) গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে, অস্ত্রবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব মধ্যস্থতাকারীরা তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গাজার মধ্যাঞ্চলীয় নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হন। অপরদিকে, উত্তরের জাবালিয়ায় আরেকটি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই এলাকাটিতে গত তিন মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।
রবিবার সন্ধ্যায় খান ইউনিসে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হন। তবে এদের মধ্যে সবাই পুলিশ সদস্য কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলাগুলো নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
হামাস-শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৮ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় একটি বাড়িতে শনিবার রাতে বিমান হামলায় একই পরিবারের সাতজন নিহত হন। রবিবার সকালে আরও চারজনকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে এক মৃতদেহের হাত বের হয়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা খালি হাতে মাটি সরিয়ে মৃতদেহ এবং সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
রবিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সপ্তাহান্তে গাজায় ১০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে বহু হামাস সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি রকেট হামলার জন্য ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি এবং গাজায় নিয়ে যাওয়া ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র।
হামাস দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তি কতটা কাছাকাছি তা পরিষ্কার নয়।
ইসরায়েল গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫০ জন জিম্মি হন। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই যুদ্ধে গাজার অন্তত ৪৫ হাজার ৮০৫ জন নিহত হয়েছেন।









