ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানের হাসপাতালে ‘রক্তস্নান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ জুন ২০২৫, ২০:২২আপডেট : ১৭ জুন ২০২৫, ২২:৪৪

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের চতুর্থ দিন সোমবার তেহরানের হাসপাতালগুলোতে রক্তাক্ত দৃশ্য ফুটে উঠছে। ইমাম খোমেনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় একযোগে বহু আহত ব্যক্তি আসার পর পরিস্থিতি ‘রক্তস্নানে’ পরিণত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, চারপাশে শুধু চিৎকার, কান্না আর রক্ত। শুরুর দিকে আমরা বুঝে উঠতে পারছিলাম না কাকে আগে বাঁচানো দরকার।

ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ২৭৭ জন আহত ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ২২৪ জন মারা গেছেন। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

তেহরানের পাশের শহর কারাজের এক চিকিৎসক বলেন, আমরা জানিই না কে বেঁচে আছেন, কে মারা গেছেন। কারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন, তাও জানি না। আমরা কেবল চেষ্টা করছি যতজনের সম্ভব প্রাণ বাঁচাতে।

চিকিৎসকরা জানান, অনেক মা-বাবা আহত অবস্থায় সন্তানকে নিয়ে দৌড়ে এসেছেন। পরে বুঝেছেন তারাও রক্তাক্ত। কারও শরীরে ধাতব টুকরো ঢুকে পড়েছে, কারও ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, আবার কারও সারা শরীর আগুনে পুড়ে গেছে।

একজন বলেন, চার বছর বয়সী শিশুর হাত-পা ভেঙে গেছে। আমরা পেছনে ফিরে তাকানোর সময়ও পাচ্ছি না।

ইরান সরকারের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানিয়েছেন, হতাহতদের ৯০ শতাংশই বেসামরিক মানুষ। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তারা কেবল সরকারের সামরিক স্থাপনায় হামলা করছে।

সোমবার এক বিমানঘাঁটিতে সফরের সময় নেতানিয়াহু বলেছেন, তেহরানের আকাশ যখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, আমরা কেবল সরকারিভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করি। ইরানি শাসকগোষ্ঠীর মতো বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করি না।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরায়েল পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ শহরের একটি হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারে বোমা পড়ার সময় উপস্থাপক দৌড়ে স্টুডিও ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে এখনও কোনও মীমাংসার ইঙ্গিত নেই।

ইমাম খোমেনি হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, গত তিনদিনের অভিজ্ঞতা আমাকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। রোগীদের যেভাবে এনে ফেলা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে আমরা কোনও রণাঙ্গনের হাসপাতাল চালাচ্ছি। এটা ভয়াবহ।

ধারাবাহিক এই হামলার মধ্যে ইরানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসকরা বিশ্রাম না নিয়েই পালা করে কাজ করছেন, খাবার বা পানি খাওয়ারও সময় পাচ্ছেন না। কারাজের ওই চিকিৎসক ক্লান্ত কণ্ঠে বলেন, ভোরের পর মনে হচ্ছে আরও লাশ আসবে।

সূত্র:  দ্য গার্ডিয়ান

/এএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের