মার্কিন হামলার শঙ্কায় ইরান, নতুন বিক্ষোভে ক্ষমতা হারানোর ভয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৬আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৪

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা দেশজুড়ে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দিতে পারে, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে তুলতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের ছয় জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ছয় জন বর্তমান ও সাবেক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর জনক্ষোভ এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে মানুষকে আর ভয় দেখিয়ে দমন করা যাচ্ছে না।

চার জন বর্তমান কর্মকর্তা আলোচনায় বলেছেন, অনেক ইরানি আবার রাস্তায় নামতে প্রস্তুত, আর যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত হামলাও তাদের আরও সাহসী করে তুলতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ইরানের শত্রুরা দেশে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, যাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটে। তার ভাষায়, হামলার সঙ্গে যদি জনক্ষোভ যুক্ত হয়, তাহলে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, এটাই ওপরের মহলের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এসব গোপন আলোচনা তেহরানের প্রকাশ্য কঠোর অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রকাশ্যে সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষা ব্যবহার করলেও ভেতরে ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব সতর্ক বার্তায় খামেনির প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি, আর রয়টার্সের প্রশ্নে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনও  মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যার উদ্দেশ্য বিক্ষোভ উসকে দেওয়া। যদিও ইসরায়েলি ও আরব কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা সম্ভব নয়।

 

/এসএসএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী