লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে রবিবার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ইসরায়েল যদি বৈরুতে কোনও হামলা চালায়, তবে তারা ইসরায়েলের ওপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে। ফলে ইসরায়েলের রবিবারের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিতে পারে এবং যুদ্ধকে আবারও উসকে দিতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, হামলার আগে ইসরায়েল ট্রাম্প প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, রবিবার ভোরে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তারা আকাশেই প্রতিহত করেছিল।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, বৈরুতের শিয়া অধ্যুষিত জেলা দাহিয়াহ-তে অবস্থিত হিজবুল্লাহর একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এলাকাটি হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরও ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন।
হামলার পরপরই ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, দাহিয়াহ-তে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর হামলার আমরা একটি চূড়ান্ত ও বেদনাদায়ক জবাব দেব। একই সঙ্গে তিনি তার অনুসারীদের রাতে ইসরায়েলের ‘আকাশের দিকে নজর’ রাখার আহ্বান জানান।
অ্যাক্সিওসকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর অনবরত হামলা মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। আর এই কারণেই বৈরুতে আঘাত করার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হিজবুল্লাহ যতবার উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালাবে, ততবারই তারা বৈরুতে পাল্টা আঘাত হানবে। তবে এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত সোমবার হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে বৈরুতে ইসরায়েলের বড় ধরনের বিমান হামলার পরিকল্পনা আটকে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই ফোনালাপের পর ট্রাম্প একটি আংশিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যেখানে শর্ত ছিল হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সীমান্ত শহরে হামলা বন্ধ করবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতে কোনও হামলা চালাবে না।
পরে বুধবার ইসরায়েল ও লেবানন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়। তবে এই চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার শর্ত ছিল হিজবুল্লাহকে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাদের যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করে নিতে হবে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহ এই শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করে। হিজবুল্লাহর এই অস্বীকৃতির কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বাস্তবে রূপ না পেয়ে কেবল ‘কাগজে-কলমেই’ সীমাবদ্ধ রয়ে যায়, যার চূড়ান্ত পরিণতি দেখা গেলো রবিবারের এই রক্তক্ষয়ী হামলার মাধ্যমে।









