যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে রবিবার একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সই হবে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি চূড়ান্ত হতে পারে। পাকিস্তান অবিলম্বে এই শান্তি চুক্তির ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি স্তরের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, চুক্তিটি আগামীকাল সই হতে যাচ্ছে। এটি স্বাক্ষরের পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পূর্ববর্তী প্রশাসনের চেয়ে অনেক আলাদা ও উন্নত। যথাযথ সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, আমাদের চমৎকার বি-২ বোম্বার এবং তাদের দক্ষ পাইলটদের ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা শক্তিশালী গ্রানাইট পর্বতের গভীরে সমাহিত পারমাণবিক ধূলিকণা বের করে আনব। এরপর ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রে তা মিশ্রিত ও ধ্বংস করা হবে।
এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। পাকিস্তান, কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রায় তিন মাসের নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতাকারী দেশের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে প্রধানত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যাতে সোমবার সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফ্রান্স সফরের আগেই দেশে ফিরতে পারেন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত। চুক্তি সইয়ের পর আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিসর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প বৈঠক করবেন। সেখানে এই চুক্তি এবং যুদ্ধ পরবর্তী আঞ্চলিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক জোট গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফ্রান্সের এই বিশেষ বৈঠকে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শিডিউল জটিলতার কারণে তিনি যোগ দিতে পারছেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্র: অ্যাক্সিওস








