৪ দিন আগে কীভাবে দেশে ঢুকেছেন দুর্ধর্ষ ইমন, সাজ্জাদ ও রায়হান কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
২৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪৯আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫১

চট্টগ্রামের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। ভারত থেকে দেশে ঢুকেছিলেন চার দিন আগে। এরপর আবার ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর বুড়ো মিয়া হাজি চৌধুরী বাড়ির মো. মুসার ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), তার সহযোগী ঢাকার শ্যামপুরধীন মোল্লারবাগ এলাকার মোহাম্মদ জাফরের ছেলে ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), ঢাকার মতিঝিল থানার আরকে মিশন রোড এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. শামীম (২৮) এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগ পুলিশ কোয়ার্টারের পেছনের এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে সাফায়েত হোসেন (২৮)। 

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাচ্ছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। চট্টগ্রামের অন্তত দুই বছর ধরে বেশ কয়েকটি হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানায়, ইমনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে। ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে আছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল। বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অপরজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা আছে।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় আছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নাজিমুল হক বলেন, ‘সন্ত্রাসী ইমন চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢোকেন। পুলিশের অভিযানের তথ্য পেয়ে আবার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এরই মধ্যে পুলিশ গ্রেফতার করে। ইমন প্রায়ই ভারত থেকে আসা-যাওয়া করেন। আমাদের কাছে তথ্য আছে, তার কাছে দুটি দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয়ের বিস্তারিত জানা যাবে।’

পুলিশ জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ বর্তমানে ভারতে আছেন। তার সঙ্গে সেখানে থাকতেন ইমন। এদিকে সাজ্জাদ আলীর আরেক সহযোগী মো. রায়হানকে ধরতেও গতকাল রাতে নোয়াখালীতে অভিযান চালানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই বাড়ির দেয়াল টপকে রায়হান পালিয়ে যান। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’

/এএম/ 
সম্পর্কিত
কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের মূল হোতা গ্রেফতার
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যে নির্দেশনা দিলো পুলিশ সদর দফতর
সালমান এফ রহমানকে এবার আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ 
সর্বশেষ খবর
অনলাইনে ফি আদায়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও সোনালী ব্যাংকের সমঝোতা
কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের মূল হোতা গ্রেফতার
যুবলীগ কর্মী হত্যায় যাবজ্জীবন আফরোজার, বললেন, ‘যত খুশি ভিডিও করেন, দেহুক সবাই’
ইউপি উদ্যোক্তাকে মারধর করে অফিস ছেড়ে দেওয়ার হুমকি বিএনপি নেতার
সর্বাধিক পঠিত
২৩ বছর ধরে বন্ধ কারখানা এখন রফতানিমুখী, চাকরি পেলো ৩৫০০ মানুষ
ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক
নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা
এক ক্লিকেই করদাতার সব তথ্য, এনবিআরকে নতুন রোডম্যাপ দিলো আইএমএফ
যুক্তরাজ্যে ঘুরতে রিপ টাইডের কবলে বাংলাদেশি পরিবার: তৃতীয় সদস্যের মৃত্যু