যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে মাইনের হুমকিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনকে উপহাস করেছে ইরান। সিয়েরা লিওনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাইনসুইপার গেমের আদলে তৈরি একটি ভিডিও পোস্ট করে যুক্তরাষ্ট্রকে (আঙ্কেল স্যাম) খোঁচা দিয়েছে।
ভিডিওর ক্যাপশনে বৃহস্পতিবার ইরানি দূতাবাস লিখেছে, ‘হাবিবি (আঙ্কেল স্যাম), কাম টু ইরান!’ ৩৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে হরমুজ প্রণালির একটি থ্রিডি ম্যাপের ওপর জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘মাইনসুইপার’-এর মতো গ্রিড বা ছক দেখা যায়।
এর কয়েক দিন আগেই হরমুজ প্রণালির লারক দ্বীপে থাকা ইরানের রকেট লঞ্চারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে হুমকি তৈরি করতে ওই প্রণালিতে মাইন বসানোর জন্য লঞ্চারগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের বসানো সামুদ্রিক মাইন সরাতে সম্প্রতি বড় ধরনের অভিযান শেষ করেছিল মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, নৌবাহিনীর ডাইভার, সিলস ও বিমান সহায়তার মাধ্যমে মাইন মুক্ত করে বাণিজ্য পথ খুলে দেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন হামলার পর জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। জর্ডান সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, তবে কিছু ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ছয় মাসব্যাপী চলমান সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিলো। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, নৌ সম্পদ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মাইন বসানোর সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম অভিযোগ করেছে, মার্কিন হামলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ৪ জন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আইআরজিসির মতো কখনও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না।
ইরানকে আর কোনও পাল্টা পদক্ষেপ না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ন্যায্যভাবে চালানো এই হামলার জবাবে ব্যর্থ রাষ্ট্র ইরান যদি পাল্টা আঘাত করে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। তবে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা নয়... এবং সবকিছু যখন শেষ হবে, তখন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অস্তিত্ব খুব সামান্যই থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং ক্ষমতার পরিবর্তন করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা এখনও অর্জন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

পাতায়ায় মাতাল হয়ে মারামারি, দুই মার্কিন সেনাকে ফিরতে হলো রণতরিতে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন ১০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ সরিয়ে নিলো নেদারল্যান্ডস






