ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে পরাস্ত করে লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার এক রক্তক্ষয়ী পদাতিক অভিযানের পর শহরটি ও এর গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইয়েমেনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে মোখা নগরীতে তীব্র লড়াই চলছিল। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালে অর্জিত একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সম্প্রতি ভেঙে পড়ার পর নতুন করে এই সংঘর্ষ ছড়ায়। নতুন অনলাইন ভিডিওতে দেখা গেছে, অস্ত্রধারী হুথি সদস্যরা পিকআপ ট্রাকে করে মোখার প্রধান সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ‘আমেরিকা নিপাত যাক, ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগান দিচ্ছে।
দক্ষিণ লোহিত সাগরের সংকীর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে মোখা মাত্র ৫০ মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের এত কাছাকাছি স্থানটির নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্য ও তেলের বাজারে হুথিদের প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যাবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা নিউ আমেরিকার ইয়েমেনবিষয়ক ফেলো অ্যাডাম বারন বলেন, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়েমেন সংঘাতের অন্যতম প্রধান মোড়।
তিনি জানান, হুথিরা প্রণালির দক্ষিণ দিকে আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আরব উপদ্বীপের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব এবং হরমুজ প্রণালি ইরান ও তার সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।
পূর্বে শহরটি ইয়েমেন সরকারের অনুগত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারেক সালেহের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জেনারেল সালেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি তার বাহিনীকে নতুন করে সুসংগঠিত হওয়া এবং একটি নিরাপদ স্থানে বিকল্প কমান্ড সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইয়েমেনের হুথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইয়েমেনের জলসীমায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের সুরক্ষায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হতে প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইয়েমেনে সৌদি হামলা বন্ধে বাধ্য করার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে কৌশলগত মোখা হাতছাড়া হওয়াকে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্রদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

ব্রিকস নেতাদের রসনাবিলাসে এবার যা যা থাকছে
আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো আলজেরিয়া







