ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে সৌদিকে গোপনে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। হুথিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং আকাশে থাকা সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা কাজ করছেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রিয়াদের নেতৃত্বাধীন সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার মুখে এই মার্কিন সমর্থনকে ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে ওয়াশিংটনের সরে আসার আগের সিদ্ধান্তের একটি আংশিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব কমানো এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার দ্বিমুখী নীতির অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত মাসে হুথিরা এক আকস্মিক হামলায় লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালির অংশবিশেষ দখল করে নেওয়ার পর, সৌদি আরবে তাদের পরামর্শক মিশন জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। জানা গেছে, ইয়েমেনে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সৌদি কমান্ডারদের সহায়তার জন্য ১০০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা সৌদির বিভিন্ন সদরদপ্তরে কাজ করছেন।
জনসমক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে একটি যুদ্ধবিরতি বজায় রয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০ দিনের বিমান হামলা স্থগিত করে ঘোষণা করেছিলেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ বিমান হামলার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পরবর্তীতে সোমবার সৌদি বিমান বাহিনীর সহযোগিতায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাবেল মান্দেব প্রণালিসংলগ্ন ধুবাব ও সেখানকার বিমানবন্দর পুনরুদ্ধারের জন্য পাল্টা অভিযান শুরু করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিলকি জানিয়েছেন, এই স্থল অভিযানে ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে।
মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে সৌদি বিমানে জ্বালানি সরবরাহের সিদ্ধান্তটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড এবং ইয়েমেনের বেসামরিক এলাকায় সৌদি বোমাবর্ষণের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে সৌদি আরবে জ্বালানি সহায়তা বন্ধ করেছিলেন ট্রাম্প।
বিগত অভিযানে হুথিদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বেশ কয়েকটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি হয়েছিল। ফলে ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে নতুন করে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে চাইছে না। মার্কিন ৫ম ফ্লিটের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল কার্ট রেনশ সম্প্রতি সৌদি রয়্যাল নেভির চিফ অব স্টাফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল মুহাম্মদ আল-গুরেইরির সঙ্গে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে বৈঠক করেছেন।
ইরান অবশ্য প্রকাশ্যে হুথিদের সহায়তার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়েমেনে বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে প্রায় ডজনখানেক আইআরজিসি-কর্মী হুথিদের সহায়তা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে না ফেলে সৌদি আরবের কাছ থেকে যতটা সম্ভব সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবে। তারা এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ক্ষোভের মুখোমুখি হতে চায় না।
সূত্র: আল-মনিটর
দুই বন্দিকে দিয়ে ঘরের কাজ করিয়ে সেই কারাগারেই আজমিরের জেলার
তিন দেশের কাছে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের