ভারতের গুজরাটের ভাবনগরের শিল্পপতি মহেশ সাবানী। বাবা দিবস উপলক্ষে ৪৭২ জন বিবাহিত মেয়ের পক্ষ থেকে অভিনন্দন পেয়ে গর্বিত তিনি। এই ৪৭২ জন মেয়ের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক নেই তার। তবু পিতৃহারা এই মেয়েদের কাছে বাবা বলতে একমাত্র তিনি। তাদের দায়িত্ব নেওয়া থেকে শুরু করে বিয়ের ব্যবস্থা করা পর্যন্ত সবকিছুই করেছেন এই মানুষটি।
প্রায় ১০ বছর আগে মহেশের বড় ভাই মারা যান। তখন তার বয়স ৩৭ বছর। মৃত ভাইয়ের দুই মেয়ের বিয়েতে 'কন্যাদান' করেছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি অনুভব করেন পিতৃহারা মেয়েদের কষ্ট। এরপর শুরু করেন পিতৃহারা মেয়েদের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়া। কন্যাদান করে তিনি হয়ে ওঠেন তাদের বাবা।
২০০৮ সাল থেকে মহেশ এ কাজ শুরু করেন। বাবা না থাকায় যেসব মেয়েরা অসুবিধায় পড়েছেন, বিয়ে হচ্ছে না, তাদের পাশে এসে দাঁড়ান তিনি। তাদের বিয়ে দেওয়া বা দায়িত্ব পালন করার অঙ্গীকার নেন। এরপর থেকেই বার্ষিক বিয়ের ব্যবস্থা করতে শুরু করেন মহেশবাবু।
মহেশ সাবানীর বাবা বল্লভভাই ৪০ বছর আগে ভাবনগরে এসে কাজ শুরু করেন। প্রথমে হিরা পালিশের কাজ করতেন তিনি। তারপর ক্রমেই তিনি নিজের একটি ছোট দোকান খোলেন। বল্লবভাইয়ের পরিবার এখন গুজরাটের বিত্তশালী পরিবার। প্রত্যেক মেয়ের বিয়ের জন্য ৪ লাখ রুপি খরচ করার সামর্থ রাখেন মহেশ সাবানী।
মেয়েদের বিয়েতে সোনা- রূপোর অলংকার দেওয়া ছাড়াও কাপড়, বাসন এমনকি ইলেকট্রনিক সামগ্রীও দেন তিনি। তবে এক্ষেত্রে মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে জাতপাত ধর্মের কোনও ভেদাভেদ তিনি মানেন না।
কন্যাভ্রূণ হত্যা, মেয়ে হওয়ায় বধূ নির্যাতন ভারতে নিয়মিত ঘটনা। এসবের মাঝে মহেশ সাবানী এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। তিনি মনে করেন, স্বামী হারা মায়েদের পক্ষে একা মেয়েকে বিয়ে দেওয়াটা কঠিন। তাই এ দায়িত্ব তিনি পালন করছেন। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
/এএ/








