কয়েক মাস ধরে আন্দোলনের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছেন, নর্থ ডাকোটায় নির্মাণাধীন ‘বিতর্কিত’ পাইপলাইনের পথ পরিবর্তন করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, নির্মাণাধীন ডাকোটা তেল পাইপলাইনটি চারটি অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিস্তৃত থাকবে। তবে আগস্টে নর্থ ডাকোটায় কাজ চলার সময় ডাকোটার আদিবাসীদের বিক্ষোভে তা স্থগিত হয়ে যায়। ‘বিতর্কিত’ পাইপলাইনটি আদিবাসীদের সংরক্ষিত এলাকার মধ্য দিয়ে যাবে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য নর্থ ডাকোটা থেকে শিকাগোর পরিশোধনাগার পর্যন্ত প্রস্তাবিত পাইপলাইন স্থাপিত হলে তা আদিবাসী গোষ্ঠীর জীবনযাপন ও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলবে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে পানির ওপর। তবে এই প্রকল্পের পক্ষে থাকা উন্নয়ন সংস্থাগুলোর দাবি, এই প্রকল্প আদিবাসীদের ওপর কোন প্রভাব ফেলবে না।
এমন অবস্থায় এক সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেছেন, তিনি এই সমস্যার কোনও সমাধান আসে কিনা, সেজন্য ‘আরও কয়েক সপ্তাহ’ অপেক্ষা করবেন। তিনি জানিয়েছেন, ওবামা প্রশাসন সংঘর্ষের বিষয়ে উদ্বিগ্ন এবং সেদিকে নজর রাখছে।
বুধবার নাউ দিজ নিউজ-কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ওবামা আরও বলেন, ‘আমার ধারণা, যে আদিবাসীরা ভয় পাচ্ছেন, তাদের অন্য স্থানে বসতি স্থাপন করে দেওয়া যেতে পারে। আর এখন পাইপলাইনের পথ পরিবর্তন করা যায় কিনা, সেনা কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।’
বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন, “এটা ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারস’-এর মতোই এক চ্যালেঞ্জিং অবস্থা।”
বুধবার নর্থ ডাকোটায় পাইপলাইনবিরোধীদের বিক্ষোভে দমনমূলক ব্যবস্থা নেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দাঙ্গা পুলিশ পিপার স্প্রে ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
আগস্টে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ১৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দমনে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নজরদারী চালাচ্ছে এবং মারমুখী আচরণ করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র: বিবিসি।
/এসএ/








