নিউ ইয়র্কে মারাত্মক পরিস্থিতির আশঙ্কা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:৪১, মার্চ ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৪৭, মার্চ ২৪, ২০২০

চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাস মহামারি আরও খারাপ রূপ নিতে পারে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন খোদ শহরের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও। তিনি বলেছেন, ‘আগামী ১০ দিনের মধ্যেই এসবের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আমরা যদি আরও ভেন্টিলেটর না পাই তাহলে লোকজন মারা যেতে শুরু করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের এই অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যেই দেশটির করোনাভাইরাস প্রকোপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সারা দেশে যতো মানুষ আক্রান্ত হয়েছে তার প্রায় অর্ধেকই এই রাজ্যের বাসিন্দা।

জরিপ পর্যালোচনাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৮৫৫ জন। এর মধ্যে ৪৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর এন্ড্রু কোমো জানিয়েছেন সেখানে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মাত্র একদিনেই এই সংখ্যা বেড়েছে চার হাজার।

মেয়র ডি ব্লাসিও বলেছেন, ‘সব আমেরিকানের সত্য জানার অধিকার আছে। পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে, এপ্রিল ও মে মাসে অবস্থা আরও খারাপ হবে।’

এই পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি ঘোষণা অনুমোদন করেছেন। এর ফলে নিউ ইয়র্ক রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কয়েকশ’ কোটি ডলারের সহায়তা পাবে। তবে মেয়র ডি ব্লাসিও ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, ভাইরাসটি মোকাবিলায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, ‘আমাকে বলতেই হবে, প্রেসিডেন্ট যদি ব্যবস্থা না নেন, তাহলে সেসব লোকজনকেও মরতে হবে, যারা হয়তো বেঁচে থাকতো পারতো।’

১৯৩০-এর দশকের অর্থনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দার পর যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় এক সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে।’

হোয়াইট হাউসে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের জন্যও তিনি একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার জন্যেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘আমেরিকানদের জন্যে এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা সবাই এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছি।’

ট্রাম্প জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে পাঠানো এসব সামগ্রী দ্রুত কমে আসার কথা জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, হাসপাতালে যেসব ডাক্তার ও নার্স এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, ইতোমধ্যেই তাদের নিরাপত্তা সামগ্রীর অভাব দেখা দিয়েছে।

অন্যান্য রাজ্যের গভর্নররাও একই ধরনের ঘাটতির কথা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তারা এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সাহায্যের জন্য আবেদন করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়াতে কর্মকর্তারা হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন করোনাভাইরাসের পরীক্ষা সীমিত করে ফেলার জন্য। ওয়াশিংটনের একটি হাসপাতাল জানিয়েছে, এপ্রিলের মধ্যেই তাদের ভেন্টিলেটর শেষ হয়ে যেতে পারে।

ইলিনয় রাজ্যের গভর্নর জে বি প্রিৎজকার বলেন, আমাদের কয়েক লাখ মাস্ক, গাউন ও গ্লাভস দরকার। কিন্তু তার খুব সামান্যই আমরা পাচ্ছি। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/

লাইভ

টপ