বাংলাদেশসহ দ. এশিয়ার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা চায় অ্যামনেস্টি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:২৬, মার্চ ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৫, মার্চ ২৬, ২০২০

করোনাভাইরাসের মহামারি থেকে প্রান্তিক এবং ঝুঁকিপূণ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বুধবার এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ মানবাধিকার সংস্থাটি এই অঞ্চলের দিনমজুর, বাস্তুচ্যুত, স্বাস্থ্যকর্মী এবং কারাবন্দিদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার কারণে লকডাউন বা কারফিউ আরোপ করে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে এর বিস্তার ঠেকাতে ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে জনগণের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এমন অবস্থায় এই অঞ্চলের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এই সংকটে আঞ্চলিক নেতাদের অবশ্যই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক মানুষদের ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। বাড়িতে থাকায় জীবিকা হারানো শ্রমিক, সংঘাতে বাড়ি হারিয়ে জনাকীর্ণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষ, প্রয়োজনীয় উপকরণ না পাওয়া যেসব চিকিৎসক ও নার্স এখন অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন তাদের সবাইকে রক্ষায় এখন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন’।

অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে জানানো হয়, ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে এক হাজার ২৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে সাত জন। ভারতে ৬০৬ জন আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দশ জন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিদিন দ্রুত গতিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আর ধারণা করা হচ্ছে পরীক্ষার অভাবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হয়ে থাকতে পারে’।

দিন মজুরদের দুর্ভোগ

দক্ষিণ এশিয়ার বহু মানুষ দৈনিক মজুরি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে তারা শ্রম দেয়। লকডাউন কার্যকর হওয়ায় এসব নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জীবিকা উপার্জনে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। এসব মানুষের বেশিরভাগই সামাজিক সুরক্ষার আওতায় পড়েন না বলে জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বিরাজ পাটনায়েক বলেন, ‘কাউকে ক্ষুধা বা সংক্রমণের মধ্য থেকে কোনও একটা বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়’। এই সংকটের সময় তাদের জীবিকা রক্ষায় রাষ্ট্রকেই যথাসম্ভব ভূমিকা নিতে হবে বলে জানানো হয় ওই বিবৃতিতে। দীর্ঘমেয়াদে সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তার দরকার হবে জানিয়ে বলা হয়, ‘এটা বিশ্বব্যাপী মহামারি আর এর সমাধান বিশ্বজুড়ে হওয়া দরকার’।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে যথেষ্ট তথ্য সরবরাহে ব্যর্থতার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোর সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি। সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা এবং ভাইরাস ঠেকাতে নেওয়া সরকারি পদক্ষেপ নিয়েও যথেষ্ট তথ্য জানানো হচ্ছে না বলে উল্লেখ করে  বিবৃতিতে এ বিষয়ে রাষ্ট্রের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

চিকিৎসাকর্মীদের সুরক্ষা

দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার মহামারিতে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় ওই বিবৃতিতে। এদের অনেকেই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবের কথা বলেছেন। এই সংকটের সময় তারাই ‘নায়ক’ বলে উল্লেখ করে অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে তাদের রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী

দক্ষিণ এশিয়ার শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে। পাকিস্তানে প্রায় ত্রিশ লাখ আফগান শরণার্থী ও বাংলাদেশে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষদের জন্য সামাজিক শিষ্টাচার (সোশ্যাল ডিসট্যান্স) মানার সুযোগ নেই, স্বাস্থ্যসেবা সহজে পাওয়া যায় না আর দৈনন্দিন প্রয়োজন যোগাড় করাও কষ্টসাধ্য’।

বাংলাদেশের কক্সবাজারে এই সপ্তাহে প্রথম এক জনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এই বিষয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে সঠিক তথ্য দিতে না পারায় সেখানে গুজব ছড়িয়েছে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে সামাজিক শিষ্টাচার পালন সম্ভব না। সেখানকার কুতুপালং শিবিরের তাঁবুগুলো একটার সঙ্গে অপরটা লাগানো। সেখানে চিকিৎসা ও জরুরি সেবারও অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

কারাগার  বন্দি

দক্ষিণ এশিয়ার কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি রয়েছে উল্লেখ করে মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, পয়নিষ্কাশনের সীমিত সুবিধার কারণে সেখানকার বন্দিরা এমনিতেই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং মান অনুযায়ী বন্দিদের সেই ধরনের চিকিৎসা সুবিধা দিতে হবে যা বাইরের নাগরিকেরাও পেয়ে থাকেন।

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সেটা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।

 

 

/জেজে/এএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ