দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুহার ইন্দোনেশিয়ায়

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৩৯, এপ্রিল ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৪, এপ্রিল ০৪, ২০২০

ইন্দোনেশিয়ায় প্রথমবারের মতো গত ২ মার্চ দুই জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়।  এক মাসের মাথায় ৩ এপ্রিল দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছায়  ১ হাজার ৯৮৬ জনে। মৃত্যু হয়  ১৮১ জনের। এ নিয়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি এবং সবচেয়ে বেশি মৃতুহারের দেশে পরিণত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।

করোনাভাইরাসে শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে মৃত্যুহার ৫.২ শতাংশ আর ইন্দোনেশিয়ায় এই হার ৯.১ শতাংশ। একই সময়ে ফিলিপাইনে এই হার ৪.৫ শতাংশ ও মালয়েশিয়ায় ১.৬ শতাংশ। যদিও এই দেশ দুটিতেই আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বেশি উপদ্রুত এলাকা রাজধানী জাকার্তা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাস.কম গত ৩ এপ্রিল জানায় রাজধানীর প্রায় ৯৫ জন স্বাস্থ্য কর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আর ২ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মারা গেছে ১৩ জন।

গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কোনও করোনা আক্রান্ত রোগী না থাকলেও ইন্দোনেশিয়ায় হঠাৎ করে বেড়ে গেছে রোগীর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর (পিপিই) সংকট আর দ্রুত রোগী পরীক্ষার অভাবের কারণে দেশটিতে মৃত্যুহার বেশি হয়েছে।

দেশটির পাদজাদজারান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের ফ্যাকাল্টি মেম্বার পানজি ফরচুনা হাদিসোয়েমাত্রো বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ে সরকার কয়েক কদম পিছিয়ে আছে দেখতে পাচ্ছি’। তিনি বলেন, ‘ল্যাবরেটরি এবং পরীক্ষার যন্ত্রপাতির ব্যবস্থায় বিলম্ব এবং কম সংখ্যক পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং কর্মীরা প্রস্তুত ছিলো না, (বাড়ি থাকতে বলার) নীতি ছিলো কেবলমাত্র একটি আহ্বান আর তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার অভাব আছে’।

ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে দুই হাজার ৮১৩টি হাসপাতাল আছে। দেশটিতে প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য গড়ে হাসপাতালের শয্যা আছে ১২টি। দেশটিতে আনুমানিক চিকিৎসকের সংখ্যা এক লাখ দশ হাজার ৪০ জন। ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ২৬ কোটির বেশি। সে হিসাবে প্রতি দশ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র চার জন।

করোনা সংক্রমণের পর চীন থেকে প্রায় পাঁচ লাখ কিট সংগ্রহ করে ইন্দোনেশিয়া। অনলাইন সংবাদমাধ্যম কাটাডাটা.কমের হিসাব অনুযায়ী ২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি দশ লাখের মধ্যে মাত্র ২৫ জনের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। এশিয়ার মধ্যে এই হার সর্বনিম্ন। এর বিপরীতে ভারতে প্রতি দশ লাখের মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫ জনের আর দক্ষিণ কোরিয়ায় আট হাজার ২২২ জনের।

সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইন্দোনেশিয়ার সরকারের মুখপাত্র আচমাদ উরিয়ান্তো বলেন, এখন পর্যন্ত কোনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘বহুমাত্রিক পরিসংখ্যান এখনও হালনাগাদ করা হচ্ছে। পরীক্ষা করা মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেলে মৃত্যুহারও কমে আসবে’।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ