যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ এলাকাগুলোর সর্বনাশ করছে করোনাভাইরাস

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:০৬, এপ্রিল ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৪, এপ্রিল ০৮, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সেখানে করোনাভাইরাসে মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান। শহরটির মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেক এবং মারা যাওয়া প্রায় ৭০ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিযেছে, কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত ডেট্রোয়েট, মিলায়ুকি, নিউ অরলিনস ও নিউ ইয়র্কের মতো অন্য বড় শহরগুলোও করোনাভাইরাসের হটস্পট হয়ে উঠেছে।

মহামারির আকার নেওয়া করোনাভাইরাসে বিশ্ব জুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ। মারা গেছে ৭৫ হাজারেরও বেশি। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

৫ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আক্রান্ত হয়েছে চার হাজার ৬৮০ জন। সোমবার সেখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, এদের মধ্যে এক হাজার ৮২৪ জনই কৃষ্ণাঙ্গ। এছাড়া ৮৪৭ জন শেতাঙ্গ, স্প্যানিশ ভাষাভাষি ৪৭৮ জন ও এশীয় বংশোদ্ভূত ১২৬ জন। রবিবার পর্যন্ত শিকাগোতে মোট ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭২ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দা।

শিকাগো শহরের এই বৈষম্য পুরো ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেই প্রতিফলিত হচ্ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অঙ্গরাজ্যে মারা যাওয়া ৪১ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ। যদিও ইলিনয়ের জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৪ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ।

শিকাগোর স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিসন আরওয়াডি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এমনিতেই শহরের কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দারা শেতাঙ্গদের চেয়ে গড়ে ৮.৮ বছর কম বাঁচে। মেয়র লোরি লাইটফুট বলেছেন, করোনাভাইরাসে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দারা। সামাজিক শিষ্টাচার মেনে চলা নিশ্চিত করতে শহরের দোকানগুলোতে পরিদর্শক পাঠানোর ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া পানীয়ের দোকানগুলোর সামনে ভিড় এড়াতে কারফিউ জারির চিন্তা চলছে বলেও জানান তিনি। 

শিকাগো ও ইলিনয় ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দাদের মধ্যে করোনায় সংক্রমণের পরিমাণ বেশি। মিশিগানে আফ্রিকান আমেরিকান জনগোষ্ঠী ১৪ শতাংশ। তবে সোমবার অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে করোনায় আক্রান্তদের ৩৩ শতাংশ এবং মৃতদের ৪১ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। বিপরীতে আক্রান্তদের ২৩ শতাংশ এবং মৃতদের ২৮ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ।

একই ধরণের বৈষম্য দেখা গেছে উইসকনসিনের মিলায়ুকিতেও। গত শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে করোনায় আক্রান্ত হওয়া প্রায় এক হাজার মানুষের অর্ধেকই কৃষ্ণাঙ্গ। আর মারা যাওয়া ২৭ জনের মধ্যে ৮১ শতাংশও তারা।

লুইজিয়ানায় করোনাভাইরাসের মৃতের ৪০ শতাংশই ঘটেছে নিউ অরলিন্স এলাকায়। এই অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দাই কৃষ্ণাঙ্গ।

শিকাগোয় বৈষম্যের নেপথ্যে কী?

শিকাগোর মেয়র লোরি লাইটফুট বলেছেন, কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডায়বেটিস, হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টের অসুস্থতার প্রবণতা বেশি। স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিসন আরওয়াডি বলেছেন, শহরের সবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও খাবার ও হাঁটার যোগ্য রাস্তার অভাব নিয়ে ব্যাপক বৈষম্য দেখা যাবে।

কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসক ড. ক্যামেরুন ওয়েব ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। তিনি বিবিসিকে বলেন, এই মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদী ও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট হয়ে ফুটে উঠছে। 

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ