অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন টিমে দুই বাঙালি নারী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:১১, এপ্রিল ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৬, এপ্রিল ২৯, ২০২০

গোটা বিশ্বকে কার্যত স্তব্ধ করে দেওয়া করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনে বেশ কিছু প্রজেক্ট চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে কয়েকটি প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও শুরু হয়ে গেছে। উদ্যোগগুলোর মধ্যে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। অক্সফোর্ডে বিজ্ঞানী সারা গিলবার্টের যে দলটি করোনা টিকা নিয়ে কাজ করছে, সেখানে রয়েছেন দুই ভারতীয় বাঙালি নারী সুমি বিশ্বাস এবং চন্দ্রা দত্ত।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির জেনার ইনস্টিটিউটের অধীনে করোনা প্রতিষেধক নিয়ে যে গবেষণা চলছে, সেই দলে রয়েছেন সুমি। আর চন্দ্রা কাজ করছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল বায়োম্যানুফ্যাকচারিং ফেসিলিটির কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স ম্যানেজার হিসেবে। এই ফেসিলিটি থেকেই তৈরি হয়েছে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক চ্যাডক্স১। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে মানবশরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ শুরু হয়েছে প্রতিষেধকটির। ইতোমধ্যে যথেষ্ট আশা জাগিয়েছে তা। বিজ্ঞানীদের মতে প্রতিষেধকটির সফল হওয়ার সম্ভাবনা অন্তত ৮০ শতাংশ।
সারা গিলবার্টের নেতৃত্বে ১৫ জন বিজ্ঞানীর দলে রয়েছেন সুমি। পেশায় ইমিউনোলজিস্ট সুমি বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাজ্যে চলে যান। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনে বছরখানেক কাজ করার পরে যোগ দেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। ২০১৩ সালে জেনার ইনস্টিটিউটে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক তৈরির কাজ শুরু করেন সুমি।

সুমি বিশ্বাস
এই মুহূর্তে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক নিয়ে জেনার ইনস্টিটিউটের গবেষণাদলের শীর্ষেও রয়েছেন সুমি। এছাড়া অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অন্তর্গত গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পাইবায়োটেকের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবেও কর্মরত তিনি। 

এদিকে টালিগঞ্জের গলফ গার্ডেনের মেয়ে চন্দ্রা ছিলেন গোখেল মেমোরিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী। হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজিতে বিটেক করার পর ২০০৯ সালে ব্রিটেনে চলে যান চন্দ্রা। লিডস ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োসায়েন্সে (বায়োটেকনোলজি) এমএসসি করেন। তারপর একাধিক দায়িত্বশীল পদে কাজ করেছেন তিনি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল বায়োম্যানুফ্যাকচারিং ফেসিলিটিতে যোগ দেওয়ার পর ভ্যাকসিন তৈরির গুণগত মানের দিকটি নজরে রাখেন চন্দ্রা। যথাযথ পদ্ধতি এবং নিয়ম মেনে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে কিনা, সবকিছু ঠিকমতো করা হয়েছে কিনা, অর্থাৎ কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্সের বিষয়টি সুনিশ্চিত করাই চন্দ্রার দায়িত্ব।

চন্দ্রা দত্ত

এই মুহূর্তে বাড়ি থেকেই কাজ করছেন বিজ্ঞানীদের দল। চন্দ্রা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে করোনা প্রতিষেধকের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর জুম অ্যাপের মাধ্যমেই কেক কেটে, ওয়াইনের বোতল খুলে উদযাপন করা হয়েছে দিনটি। সংবাদমাধ্যমকে চন্দ্রা বলেছেন, ‘আমাদের জীবনের লক্ষ্যই হলো মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ, আরও উন্নত করে তোলা। গত একমাসে আমাদের সবার ওপরেই প্রচণ্ড চাপ ছিল, কিন্তু সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে খুব তাড়াতাড়ি আমরা ভ্যাকসিনটি তৈরি করতে পেরেছি। গোটা দুনিয়া এই ভ্যাকসিনের সাফল্য কামনা করছে, একমাত্র তাহলেই জীবনে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।’

কতদিনে সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে এই ভ্যাকসিন? সংবাদমাধ্যমকে চন্দ্রা বলেছেন, ‘যতদূর জানা আছে, ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগেই পুনের সিরাম ইনস্টিটিউটে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে, যাতে ট্রায়াল শেষ হয়ে গেলেই তা বাজারে পৌঁছে যেতে পারে।’

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ফেমিনা ম্যাগাজিন

/এফইউ/বিএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ