নিউ ইয়র্কের আজকের নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে পারবে বাংলাদেশিরা?

Send
ব্রজেশ উপাধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশিত : ১০:৪১, জুন ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৩, জুন ২৩, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে স্থানীয়, স্টেট ও কংগ্রেশনাল প্রাইমারি-র ভোটগ্রহণ। এদিনের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে থাকছে একজন নারীসহ অন্তত আটজন বাংলাদেশি-আমেরিকানের নাম।

বাংলাদেশি রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্টদের বিশ্বাস, এই প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করেছে। নির্বাচনি প্রচারণায় করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ থাকলেও তাদের জয়ের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

কুইন্সের মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস এবং সাবেক বারটেন্ডার ও মেরিন ২৮ বছরের শানিয়াত চৌধুরীর মধ্যকার লড়াই দেখার মতো হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ২০১৮ সালে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের প্রচারে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন শানিয়াত।

বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক এবং রাজনৈতিক দল বাংলাদেশি-আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস (বিএপিপি)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রায়হান ফারুকী। তিনি বলেন, গ্রেগরি মিকস-কে হারানোর জন্য শানিয়াত চৌধুরী একটি দুর্দান্ত শট পেয়েছেন।

বিএপিপি-এর প্রধান নির্বাচনি কৌশলবিদের দায়িত্বও পালন করছেন রায়হান ফারুকী। তিনি বলেন, আমরা একটি বিশাল খেলার মাঠ তৈরি করেছি এবং আমি নিশ্চিত যে, এটি আমাদের প্রত্যাশিত ফল দেবে।

গত নভেম্বরে চালু হওয়া বিএপিপি ‘বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের স্বার্থ সুরক্ষায়’ প্রার্থীদের জন্য ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।

বেশিরভাগ বাংলাদেশি প্রার্থী প্রগতিশীল এজেন্ডায় প্রচার চালাচ্ছেন। তারা জনসাধারণের জন্য উচ্চতর ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও চাকরির মতো বিষয়গুলোর ওপর জোর দিচ্ছেন।

নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেমব্লি-র নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন উবার চালক এবং ইউএস ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য জয় চৌধুরী।

নিউ ইয়র্ক যখন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শীর্ষে ছিল তখন তিনি কুইন্স মিউচুয়াল এইড নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনে বাসিন্দাদের খাবার সরবরাহ করতে কয়েক মাসের জন্য তার প্রচার স্থগিত করেছিলেন। তার ওই কার্যক্রম ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

জয় চৌধুরী বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে, মানুষ যদি ভোট দিতে বের হয় তাহলে আমিই জিতবো।’

নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি ট্যাক্সি ড্রাইভারের অধিকার, সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং পাবলিক কলেজগুলোতে বিনামূল্যে শিক্ষার মতো বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছেন।

স্টেট অ্যাসেমব্লির নির্বাচনে আরেক বাংলাদেশি প্রার্থী মেরি জোবাইদা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যাথি নোলান এমন একজন প্রার্থী যিনি গত ১০ বছরে কোনও নির্বাচনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হননি।

জোবাইদার নির্বাচনি প্রচারণা প্রাধান্য পেয়েছে সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা, জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের প্রভাব রোধের মতো ইস্যুগুলো। তার জয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রায়হান ফারুকী।

বেশিরভাগ প্রার্থী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের ২০১৮ সালের সফল প্রচারণার প্রগতিশীল প্লেবুক অনুসরণ করছেন। অন্তত একজন বাংলাদেশি প্রার্থী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল উইংয়ের একজন তারকার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবারের নির্বাচনে অনেকেই ভোট দেওয়ার জন্য ইমেইল-কেই মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। প্রার্থীরা চাইছেন, তাদের সমর্থকরা যেন সকাল সকাল তাদের ব্যালট প্রয়োগ করেন।

বিএপিপি-এর প্রধান নির্বাচনি কৌশলবিদ রায়হান ফারুকী বলেন, ‘১০ থেকে ১১ দিনের ম্যারাথনের পর মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি আমাদের প্রার্থীদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

/এমপি/

লাইভ

টপ
X