মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের উৎস করোনাভাইরাস?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:০০, জুলাই ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৫, জুলাই ০৮, ২০২০

করোনাভাইরাস মস্তিষ্কের গুরুতর ও প্রাণঘাতী জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত মৃদু উপসর্গযুক্ত কিংবা সুস্থ হওয়ার পথে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি নীরবে গুরুতর প্রভাব তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতীকী ছবি

বুধবার (৮ জুলাই) ব্রেন সাময়িকীতে এক দল ব্রিটশ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের করা এক গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে মস্তিষ্কের জটিলতায় ভোগা ৪০ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন বিশেষজ্ঞরা। এসব রোগীরা মস্তিষ্কের প্রদাহ থেকে শুরু করে নার্ভ ড্যামেজ ও স্ট্রোকসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের জটিলতার বিষয়টি প্রথম ও অন্যতম উপসর্গ হিসেবে দেখা দিয়েছিল।

এ ধরনের জটিলতাকে ডাকা হয় একিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমিয়েলাইটিস (এডেম) নামে। একে জীবনের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আগে ইউসিএল ইন্সটিটিউট অব নিউরোলজিতে মাসে একজন এ ধরনের জটিলতা নিয়ে ভর্তি হতেন। তবে গত এপ্রিল থেকে মে মাসে সে সংখ্যা বেড়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের জটিলতা নিয়ে এক নারী মারাও গেছেন। তার বয়স ৫৯ বছর।

যেসব রোগীকে নমুনা হিসেবে নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ১২ জনের কেন্দ্রীয় স্নায়ু ব্যবস্থায় প্রদাহ ছিল, ১০ জনের দেখা দিয়েছিল স্নায়ু রোগ, আর আটজন স্ট্রোক করেছিল। এছাড়া আটজনের নার্ভে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তাদের বেশিরভাগেরই গিলেইন বার সিন্ড্রোম শনাক্ত হয়। এটি হলো ইমিউন সিস্টেমের এক ধরনের প্রতিক্রিয়া যা নার্ভকে আক্রান্ত করে এবং প্যারালাইসিসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট মাইকেল জান্ডি বলেন, ‘আমরা যেভাবে কোভিড-১৯ কে মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলতে দেখছি, তা এর আগে অন্য কোনও ভাইরাসের ক্ষেত্রে দেখিনি।’

গবেষণা প্রতিবেদনে ৫৫ বছর বয়সী এক নারী রোগীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তার আগে কখনও মনরোগজনিত অসুস্থতা ছিল না। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি যাওয়ার পরদিনই অদ্ভুত আচরণ শুরু হয় তার। বার বার গায়ে কোট পরছিলেন আবার তা খুলে রাখছিলেন। তার ভুল হতে লাগলো। তিনি কখনও বানর আবার কখনও সিংহ দেখছিলেন। এরপর আবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর এন্টি সাইকোটিক ওষুধ গ্রহণের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

৪৭ বছর বয়সী আরেক নারী রোগী জানিয়েছেন, জ্বর আর কাশি হওয়ার এক সপ্তাহ পর তার মাথাব্যথা শুরু হয় এবং ডান হাত অবশ হয়ে যায়। এ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে তার মস্তিষ্কে জরুরিভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়।

এসব ঘটনা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, করোনাভাইরাস মানুষের দেহে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। সুস্থ হয়ে যাওয়ার অনেকদিন পর মানুষের শ্বাসকষ্ট, অসাড়তা, দুর্বলতা ও স্মৃতিভ্রমসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। ১৯১৮ সালে ফ্লু মহামারির পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ মানুষ মস্তিষ্কজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। আর তাই করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সময় মস্তিষ্ক ও স্নায়ু জটিলতাজনিত লক্ষণ চোখে পড়লে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে নেওয়ার জন্য চিকিৎসাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ