কাশ্মির ইস্যুতে আবারও নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার আলোচনা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:০৭, আগস্ট ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৭, আগস্ট ০৬, ২০২০

জাতিসংঘের প্রভাবশালী নিরাপত্তা পরিষদে আবারও আলোচিত হয়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ইস্যু। পাকিস্তানের অনুরোধে বুধবার (৫ আগস্ট) রুদ্ধদ্বার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে আলোচনা শেষে পরিষদের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি কিংবা কোনও পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। এই নিয়ে এক বছর মধ্যে ইস্যুটি তৃতীয়বারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের আলোচিত হলো। বৈঠকের পর পাকিস্তান পরিষদকে ধন্যবাদ জানালেও একে ইসলামাবাদের আরেকটি ব্যর্থতা আখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় দূত। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কঠোর নজরদারির মধ্যে দিন কাটছে কাশ্মিরের বাসিন্দাদের

কঠোর নিরাপত্তা আর নজিরবিহীন নজরদারির মধ্য দিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে মোদি সরকার। এর মাধ্যমে কাশ্মিরিদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে যায়। অঞ্চলটিকে দু’ভাগ করে জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ নামে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়। ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তৎপরতা শুরু করে পাকিস্তান। জাতিসংঘে বিশেষ বৈঠকের আয়োজনে ব্যর্থ হয় দেশটি। পরে চীনের মাধ্যমে ইস্যুটি দুই দফায় নিরাপত্তা পরিষদে তুলতে সক্ষম হয় ইসলামাবাদ। তবে এসব আলোচনার পর পরিষদের তরফে কোনও বিবৃতি বা পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মির ইস্যুতে আলোচনা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহম মাহমুদ কোরেশি একে তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি  বলেন, ‘জম্মু কাশ্মিরকে জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক বিরোধ বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আলোচিত হয়েছে এবং আরও একবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে পক্ষপাতমূলক দাবিকে বাতিল করে দিয়েছে।’

পাকিস্তানের জাতিসংঘ মিশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিতরণ করা বক্তব্যে শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, ‘কাশ্মিরি জনগণের ওপর পরিচালিত গণহত্যা বন্ধে এবং ভারতের দায়মুক্তির স্রোত উল্টোদিকে প্রবাহিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক, আইনি এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ব্যবহার করা উচিত।’ কাশ্মিরের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের দ্রুত মুক্তি দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরেশি।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর ভারতের নতুন জাতিসংঘ দূত টি.এস ত্রিমূর্তি টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের আরও একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা!’ তিনি লেখেন, ‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আজকের বৈঠকটি ছিল, রুদ্ধদ্বার, অনানুষ্ঠানিক, রেকর্ডহীন এবং কোনও সিদ্ধান্তও আসেনি। প্রায় সবদেশই উল্লেখ করেছে জেঅ্যান্ডকে (জম্মু-কাশ্মির) দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আর এটি পরিষদের সময় ও মনোযোগের দাবি রাখে না।’

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন অবসানের সময়ে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠন করা হলেও অমিমাংসিত থেকে যায় কাশ্মিরের ভবিষ্যত। হিন্দু মহারাজার শাসনাধীন এই অঞ্চলটি ছিলো মূলত মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ। দুই শক্তিধর প্রতিবেশি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিনটি যুদ্ধের দুটিই সংঘঠিত হয়েছে কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে প্রথম যুদ্ধ শেষ হলে অঞ্চলটি দুইভাগ করে এক অংশের নিয়ন্ত্রণ পায় পাকিস্তান আর অপর অংশের নিয়ন্ত্রণ পায় ভারত। ওই সময়ে এর ‘চূড়ান্ত বিন্যাসে’ জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় গণভোট আয়োজনের কথা থাকলেও তা কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।

কাশ্মিরে ভারত-পাকিস্তানের অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণে ১৯৪৯ সালের জানুয়ারিতে কাশ্মিরে সামরিক পর্যবেক্ষক পাঠায় জাতিসংঘ। ১৯৭১ সালে নতুন করে সহিংসতার পর ওই এলাকা পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকেরা থেকে যায়। সেখানকার পর্যবেক্ষকেরা সরাসরি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে প্রতিবেদন পেশ করে থাকে। তবে দুনিয়ার অন্যান্য এলাকায় মোতায়েনকৃত জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন পেশ করতে হয় নিরাপত্তা পরিষদের কাছে।

২০১৯ সালের আগস্টে ভারত আকস্মিকভাবে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো রুদ্ধদ্বার আলোচনায় বসে নিরাপত্তা পরিষদ।

ভারতের অভিযোগ কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের আন্দোলনে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে পাকিস্তান। তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে ইসলামাবাদের দাবি তারা কেবল সেখানকার স্বাধীনতাকামীদের কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়ে থাকে।

/জেজে/

লাইভ

টপ