মডার্নার করোনার টিকার ১০ কোটি ডোজ কিনছে যুক্তরাষ্ট্র

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:২৪, আগস্ট ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২৮, আগস্ট ১২, ২০২০

মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি মডার্নার উদ্ভাবিত করোনা টিকার ১০ কোটি ডোজ কিনছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দেড় বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস ও মডার্নার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, একজন ব্যক্তিকে মডার্নার এই টিকা দুই ডোজ করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে দাম পড়বে ৩০.৫০ ডলারের মতো।

করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেসব চুক্তি করেছে তার সঙ্গে এর বেশ সামঞ্জস্য রয়েছে।

করোনা টিকা উদ্ভাবন ও এর উন্নয়নে ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের তহবিল বরাদ্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মডার্নার বাইরে জনসন অ্যান্ড জনসন, নোভাভ্যাক্স, ফাইজার ও সানোফিকে আরও ১০০ মিলিয়ন ডোজ করোনা টিকার অর্ডার দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আরও ৩০০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহের জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকা-কে অর্ডার দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী মাসের শেষের দিকে প্রাথমিক ডোজ বিতরণের খসড়া নির্দেশিকা তৈরি হতে পারে।

চিরাচরিতভাবে যেকোনও রোগের ভ্যাকসিন উদ্ভাবিত হলে প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী ও সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দেওয়া হয়। কিন্তু এবার মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কলিন্স নতুন ধারণা তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, এবার ভৌগোলিক অবস্থান এবং মহামারিতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত এলাকার মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের, যাদের ডামি ডোজ দেওয়া হয়েছিল তারাও প্রথম তালিকায় থাকবেন। কলিন্স বলেন, আমরা তাদের কাছে ঋণী। ফলে তারা বিশেষ প্রাধান্য পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডোজের আগাম সরবরাহ নিশ্চিত করার বিশাল প্রতিশ্রুতির পরও কঠিন সত্য হলো, এই বছরের শেষের দিকে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণিত হলেও যাদের প্রয়োজন তাদের সবাই ভ্যাকসিন পাবে না। বিশেষত যখন সম্ভাব্য ভ্যাকসিনগুলোর দুটি ডোজ প্রয়োজন হবে।

এটি বৈশ্বিক উভয় সংকট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ‘কারা প্রথমে ভ্যাকসিন পাবে’ প্রশ্নের মুখে জর্জরিত হচ্ছে। সংস্থাটি চেষ্টা করছে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ন্যায্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, বিত্তশালী দেশগুলো সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ কিনে বাজারকে এক পাশে ঠেলে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভাইজরি কমিটি অব ইমিউনাইজেশন প্র্যাকটিস নামের একটি গোষ্ঠী কাদের এবং কখন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে তা সম্পর্কে সুপারিশ করে। এই পরামর্শগুলো মার্কিন সরকার সাধারণত সব সময় অনুসরণ করে।

এখনকার সময়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে সিদ্ধান্ত খুবই কৌশলী হবে। ফলে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব মেডিসিনের নীতিশ্বাস্ত্রবিদ ও ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞদের সরকারকে পরামর্শ দেওয়া ও ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস।

/এমপি/

লাইভ

টপ