এবার কমলার জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক উস্কানোর চেষ্টা ট্রাম্পের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:১১, আগস্ট ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৬, আগস্ট ১৪, ২০২০

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করে আসা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের ক্ষেত্রেও একই পথে হাঁটতে চাইছেন। বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার ক্ষেত্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলার ‘সাংবিধানিক যোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর আগে একই ধরনের প্রশ্ন তোলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন রক্ষণশীল আইনের অধ্যাপক। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুতর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কমলা হ্যারিস

২০০৮ সালে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শুরু হয় ‘বার্থার’ মুভমেন্ট। এতে অংশগ্রহণকারীদের দাবি ছিল ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে নয়, কেনিয়ায়। ফলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন তিনি। ওই আন্দোলনের জনপ্রিয় মুখপাত্রে পরিণত হয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে ওই মুভমেন্টে বিরক্ত হয়ে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জন্মের সনদও প্রকাশ করেন ওবামা। তবে গতবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে নেমে চাপের মুখে নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ান ট্রাম্প। দাবি করেন, তিনি নন, ওবামার জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছিলেন হিলারি ক্লিন্টনের প্রচারণা শিবির।

আর গত মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের রানিংমেট হিসেবে কমলা হ্যারিসের নাম ঘোষণার পরই তাকে নিয়ে বিতর্ক শুরুর চেষ্টায় নেমেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়া কমলার জন্ম ১৯৬৪ সালের ২০ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে। তার মা ভারতীয় আর বাবা জ্যামাইকান। ফলে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে তার কোনও বাধা নেই বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ।

তবে রক্ষণশীল আইনের অধ্যাপক জন ইস্টম্যান মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ ও চতুর্দশ সংশোধনীর দিকে ইঙ্গিত করে যুক্তি দেন যে, কমলার জন্মের সময় তার বাবা-মায়ের মধ্যে কোনও একজনের যদি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না থাকে তাহলে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার অযোগ্য হয়ে যাবেন।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ইস্টম্যানের ওই যুক্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আজই বিষয়টি শুনেছি যে তার (কমলা) প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নেই, আর যে আইনজীবী যুক্তি তুলেছেন তিনি খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন এবং মেধাবী।’ ট্রাম্প বলেন, এটা সঠিক কিনা তা নিয়ে এখনই আমার কোনও ধারণা নেই। কেবল অনুমান করতে পারি তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বেছে নেওয়ার আগে ডেমোক্র্যাটরা দেখেশুনে নিয়েছেন। কিন্তু এটা খুবই মারাত্মক, আপনারা বলছেন, অন্যরাও বলছে সে এই দেশে জন্ম না নেওয়ায় তার যোগ্যতা নেই।

উল্লেখ্য, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়াসহ বেশ কিছু আইনি যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে।

/জেজে/এমওএফ/

লাইভ

টপ