বিনম্র শ্রদ্ধায় ৯/১১-এর হতাহতদের স্মরণ করলেন ট্রাম্প-বাইডেন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:৩৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৫৭, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হচ্ছে ৯/১১ হামলার ১৯তম বার্ষিকী। এ উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে বিনম্র শ্রদ্ধায় ৯/১১-এর হতাহতদের স্মরণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। জো বাইডেন ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স নিউ ইয়র্কে এ উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে পেনসিলভানিয়াতে হাইজ্যাক করা বিমানের দুর্ঘটনাস্থলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুষ্ঠানগুলোতে বাইডেন-পেন্সকে মাস্ক পরিহিত দেখা গেলেও ট্রাম্পকে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের আয়োজনে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির ফলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে হয়েছে আয়োজকদের।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকতেই যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে ৯/১১-এ নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এয়ারফোর্স ওয়ানের কনফারেন্স রুমে তারা এ নীরবতা পালন করেন বলে জানিয়েছেন তাদের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকেরা। এ সময় কোনও বক্তব্য রাখেননি ট্রাম্প।

নিউ ইয়র্কের আয়োজনে প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গভর্নর অ্যান্ড্রু কৌমো ও সিনেটর চাক শুমার-এর মতো ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এতে হামলায় নিহত প্রায় তিন হাজার মানুষের নাম ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে করোনা পরিস্থিতির ফলে সহজাত করমর্দন না করে পরস্পরের কনুই ঠুকরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মাস্ক পরিহিত বাইডেন ও পেন্স। অনুষ্ঠানে পেন্স বাইবেলের স্তবক পাঠ করেন। তবে বাইডেন কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।

পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভাইলে ও পেন্টাগনেও একই ধরনের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এখানে লোকজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আসন গ্রহণ করেন।

শ্যাংকসভাইলের স্মরণসভায় ট্রাম্প বলেন, শত্রু ও ভয়াবহ হামলার মাঝখানে একমাত্র দাঁড়িয়েছিল আমেরিকান গণতন্ত্র এবং ৪০ সাহসী নারী ও পুরুষ। যারা ছিলেন ফ্লাইট ৯৩ এর যাত্রী ও ক্রু। সন্ত্রাসীরা আমাদের জনগণকে হুমকি দিলে আমেরিকা কখনও বসে থাকবে না।

ট্রাম্প তার ভাষণে ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেটের নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি ও ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার কথা তুলে ধরেন। তবে ২০১১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের শাসনামলে ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার উল্লেখ করেননি তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুইটি ভবনে বিমান নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় আল কায়েদার জঙ্গিরা। ধ্বংস হয় পাশের আরেকটি ছোট ভবনও। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে বহু মানুষ। উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গিয়েও প্রাণ হারান অনেকে। হামলার শিকার হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের হেডকোয়ার্টার পেন্টাগন। প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারান ৯/১১ এর হামলায়। নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নেমে আসে সাঁজোয়া যান। হামলার আশঙ্কায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে দিনভর বিভিন্ন অজানা স্থানে রাখা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এই হামলাকে ‘আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলা’ আখ্যা দেয়। ৯/১১ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে একদিকে যেমন মার্কিন আইন কঠোরতর হয়, তেমনি ঢেলে সাজানো হয় মার্কিন আমলাতন্ত্র। গঠিত হয় নতুন বাহিনী, নতুন মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ একতাবদ্ধ হয় পশ্চিমা শক্তিগুলো। আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে তারা ক্ষমতাচ্যুত করে তালেবান জঙ্গিদের। আফগান যুদ্ধ শুরুর পর ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে হামলা হয় ইরাকেও। এরপর দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয় নতুন জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এবং সেই সূত্রে আরও যুদ্ধ। সূত্র: রয়টার্স।

/এমপি/

লাইভ

টপ
X