কৃষি বিলে ভারতের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর, আরও জোরালো হলো বিক্ষোভ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:৩৩, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫১, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

বিতর্কিত তিন কৃষি বিলে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষর করার খবরে বিক্ষোভ আরও জোরালো করেছেন ভারতের কৃষকরা। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্য। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ইন্ডিয়া গেটের কাছে ট্রাক্টর পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

‘অত্যাবশ্যক পণ্য আইন’ সংশোধন, ‘কৃষিপণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন’ এবং ‘কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করতে কৃষকদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন চুক্তি’ সংক্রান্ত বিল তিনটি সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে পাস হয়। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সেগুলোতে স্বাক্ষর করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এর মধ্য দিয়ে বিলগুলো আইনে পরিণত হয়েছে। বিলগুলো পাস না করতে আগে থেকেই বিক্ষোভ করছিলেন কৃষকরা। রাজ্যসভায় বিল পাসের পর তাতে স্বাক্ষর না করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন তারা। তবে সে অনুরোধে সাড়া দেননি কোবিন্দ। আর তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ আরও জোরালো করেছেন কৃষকরা। এরমধ্যেই সোমবার একটি ট্রাক্টর পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘আজ সকাল সোয়া ৭টার দিকে রাজপথে মান সিং ক্রসিংয়ে টাটা ৪০৭ গাড়িতে করে একটি ট্রাক্টর নিয়ে আসে ১৫-২০ জনের একটি দল। তারা গাড়ি থেকে ট্রাক্টরটি নামিয়ে তা পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা নিজেদের ইয়ুথ কংগ্রেস পাঞ্জাবের সদস্য বলে দাবি করেছে।’ দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেসপন্থী স্লোগান দিচ্ছিলো।

এ ঘটনায় এরইমধ্যে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা সবাই পাঞ্জাবের বাসিন্দা।

হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশেও চলছে আন্দোলন। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, অমৃতসর-দিল্লি রেললাইনের ওপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন চাষিরা। পাঞ্জাবে আন্দোলনে নেমেছে এনডিএ-র প্রাক্তন জোট শরিক অকালি দলও। তারা বিরোধীদের একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

শুধু উত্তর ভারত নয়, বিক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ ভারতের কর্নাটকও। তবে সেই আন্দোলনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে রাজ্যের বিধানসভায় পাস হওয়া দুটো বিল। ‘কৃষিপণ্য বিপণন (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) সংশোধনী বিল’ ও ‘কর্নাটক ভূমি সংস্কার সংশোধনী বিল’ প্রত্যাহারে দাবিতে সোমবার বনধ ডাকা হয়েছে। চলছে বিক্ষোভ। সেখানে যানবাহন চলাচল কম। দোকানপাটও খোলেনি।

আন্দোলনকারী কৃষক এবং বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই বিলগুলোতে কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে বড় ব্যবসায়ী এবং করপোরেট সংস্থাগুলোকে একতরফা ফসলের দাম নির্ধারণ এবং মজুতদারির অধিকার দেওয়া হয়েছে। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি, এই বিলগুলো নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

/এফইউ/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X