ইউরোপে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নতুন তাণ্ডব

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৩৩, অক্টোবর ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৫, অক্টোবর ২৫, ২০২০

করোনা সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়ে চলায় লকডাউন, কারফিউ ও অন্যান্য কড়া পদক্ষেপের পথে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে ইউরোপের একাধিক দেশ। বিশেষ করে রাতে পার্টিসহ আমোদের কারণে মানুষের সমাবেশ ও পারিবারিক অনুষ্ঠানকেই ইউরোপের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এমন জমায়েত এড়িয়ে চলতে প্রশাসনের আবেদনে মানুষ যথেষ্ট সাড়া না দেওয়ায় রাতে কারফিউ ও অন্যান্য কড়াকড়ির পথ বেছে নিচ্ছে ইউরোপের একাধিক দেশের সরকার।

জার্মানিতে সংক্রমণের হার প্রতিদিন বাড়ছে। বৃহস্পতিবার ১১ হাজারের বেশি নতুন সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছে। খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় কোয়ারেন্টিনের নিয়ম পালন করছেন। আগামী সপ্তাহে চ্যান্সেলর ম্যার্কেল ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

ফ্রান্সে করোনা মহামারি মারাত্মক রূপ নেওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে কার্যত গোটা দেশজুড়ে রাতে কারফিউ কার্যকর করা হচ্ছে। এক দিনে প্রায় ৪১ হাজারের বেশি নতুন সংক্রমণের ঘটনার ফলে সে দেশের সরকার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে। আগের দিনের তুলনায় সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় দশ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জঁ কাস্টেক্স বলেন, দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় রাতে কারফিউ চালু করা হচ্ছে।

স্পেন রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ও রাতের কারফিউ জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ জানিয়েছেন, রবিবার থেকে স্থানীয় সময় রাত ১১ টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ জারি থাকবে। জরুরি অবস্থার আওতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে।

সানচেজ জানিয়েছেন, পার্লামেন্টের কাছে জরুরি অবস্থার মেয়াদ ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার প্রস্তাব দেবেন।

ইতালির রোম, নেপলস ও মিলান শহরেও রাতে কারফিউ ফের জারি করা হয়েছে। দেশটিতে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মুখে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। সোমবার থেকে বন্ধ হচ্ছে চলচ্চিত্র পেক্ষাগৃহ, জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুল। বার, রেস্তোরাঁ ও আইসক্রিম স্ট্যান্ড ছয়টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। তবে দোকান ও বেশিরভাগ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালু থাকবে।

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সসহ কয়েকটি শহরে রাত সাড়ে বারোটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশের মতো গ্রিসেও রাতে মানুষের সমাবেশ, পার্টি ও আমোদের কারণে সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকস মিসোটাকিস টেলিভিশন ভাষণে দেশবাসীর প্রতি আমোদ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ডাক দিয়েছেন।

চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিস বারবার লকডাউনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও বৃহস্পতিবার ঠিক সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন। সে জন্য দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন পদক্ষেপ না নিলে নভেম্বর মাসের শুরুতেই দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামো ভেঙে পড়বে। সংক্রমণের হার আগের রেকর্ড ভেঙে এগিয়ে চলায় সে দেশে আতঙ্ক বাড়ছে।

পর্তুগাল, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, স্পেন ইত্যাদি দেশেও নানা পর্যায়ে কড়াকড়ি চালু আছে এবং প্রয়োজনে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি ও ডয়চে ভেলে

/এএ/

লাইভ

টপ