পাকিস্তানের জেলে ভারতীয় বন্দি কৃপাল সিং-এর মৃতু রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। দুই দেশের টানাপোড়েনের পর মঙ্গলবার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের হাতে কৃপালের মরদেহ তুলে দেওয়া হলেও তার শরীরে হৃদপিণ্ড ও পাকস্থলি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০১৩ সালে একইরকম ঘটনা হয়েছিল পাকিস্তানের জেলে মৃত্যু হওয়া ভারতীয় নাগরিক সর্বজিৎ সিং এর ক্ষেত্রেও। পাকিস্তানের জেলে নির্যাতনের শিকার হয়ে সর্বজিৎ মারা যান বলে দাবি করে আসছে ভারত। আর গত ১১ই এপ্রিল কৃপাল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও স্বজনদের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোহিনূর নিয়ে ভারতের সুর বদল!
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ১১ এপ্রিল জিন্নাহ হাসপাতালে কৃপালের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার তার মরদেহ ভারত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের সময় সামনে আসে কৃপালের দেহে দুটি অঙ্গ না থাকার বিষয়টি। যদিও শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। এদিকে এবিপি আনন্দের খবরে বলা হয়েছে, দুটি অঙ্গেরই নমুনা সংগ্রহ করে অমৃতসরের এক সরকারি গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হয়েছে। অমৃতসরের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই পরীক্ষার পরই কৃপালের মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: নারী শিক্ষকের সঙ্গে করমর্দনে দুই মুসলিম কিশোরের অস্বীকৃতি
১৯৯২ সালে ওয়াগা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হন কৃপাল। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সিরিয়াল বিস্ফোরণ মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে পরে গুরদাসপুরের বাসিন্দা কৃপালকে বিস্ফোরণে জড়িত থাকার যাবতীয় অভিযোগ থেকে রেহাই দেন লাহোর হাইকোর্ট। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা রহিত করা হয়নি। কারাগারে সর্বজিৎ-এর পাশের কক্ষেই থাকতেন কৃপাল। পরিবারের অভিযোগ, কৃপাল সর্বজিৎ এর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী। আর সেকারণেই পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাকে হত্যার চক্রান্ত করেছে।
আরও পড়ুন: পানামা পেপারস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কর ফাঁকির তদন্ত শুরু
কৃপালের পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, জেলে তার ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল, যার জেরেই এই মৃত্যু বলে মনে করেন তারা। মঙ্গলবার ওয়াগা সীমান্তে যখন কৃপালের মরদেহ হস্তান্তর করা হয় তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন কৃপালের বোন জাগির কৌর, পাঞ্জাবের ক্যাবিনেট মন্ত্রী গুলজার সিংহ রানিকে, অমৃতসরের ডেপুটি কমিশনার বরুণ রুজাম এবং অন্যান্য প্রবীণ সরকারি কর্মকর্তারা। এছাড়াও সেখানে ছিলেন সর্বজিৎ-এর বোন দলবীর কৌর। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এবিপি আনন্দ
/এফইউ/বিএ/








