ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ মালিকরা ব্রেক্সিটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন নীতির কারণে চরম কর্মী সংকটে পড়েছেন বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ মালিকরা। এ পরিস্থিতিতে তারা ব্রেক্সিটের পক্ষে অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ব্রিটেনে বর্তমান প্রায় ১২ হাজার রেস্তোরাঁ রয়েছে। তাদের একজন প্রিন্স অব বেঙ্গলের মালিক সাইফুল আলম। তিনি জানান, তাকে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। নতুন অভিবাসন আইনের কারণে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে প্রয়োজনীয় কর্মী আনা সম্ভব হচ্ছে না।
আগামী ২৩ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের থাকা না থাকা নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ গণভোটকে সামনে রেখে কারি শিল্পের সংকট নিয়েও রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হচ্ছে।
ভোট লিভ ক্যাম্পেইন বলছে, ইউরোপে অভিবাসীর ঢল বন্ধ করতে ব্রিটেন যে নতুন অভিবাসন আইন করেছে তাতে কারি শিল্পেও সংকট তৈরি হচ্ছে। তারা বলছে, ব্রেক্সিটের কারণে অভিবাসন পদ্ধতি আরও উন্নত হতে পারে। কারণ চলমান অভিবাসন পদ্ধতিতে ইইউকর্মী এবং ইইউ নয় এমন কর্মীদের মধ্যে পার্থক্য করা হচ্ছে। ব্রেক্সিটের মাধ্যমে তা সমান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গেলো উত্তর লন্ডনের ওয়ার্টফোর্ডের প্রিন্স অব বেঙ্গলের মালিক আলমের কণ্ঠে। কারণ তার রোমানিয়ান পাচকের পক্ষে রেস্তোরাঁর কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আলমের রেস্তোরাঁয় ব্রিটেন ও পূর্ব ইউরোপের কর্মচারী রয়েছেন। কিন্তু তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা মশলাদার খাবারের সঙ্গে পরিচিতি নয়। এসব রান্নার উপায়ও তাদের জানা নেই।
বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ব্রিটেনে স্টাফ সংকটের কারণে প্রতি সপ্তাহে চার পাঁচটি করে রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
ভোট লিভ ক্যাম্পেইনার এবং সরকারের মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল এ শিল্পের সংকটের জন্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি কারি শিল্প রক্ষায় ‘সেভ আওয়ার কারি হাউজেজ’ নামে প্রচারণা শুরু করেছেন।
ব্রিটেনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দা গণভোটে ভোট দেওয়ার যোগ্য। অন্যদিকে ভোট লিভ ক্যাম্পেইনাররাও ইইউ’র বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউকে ইনডিপেনডেন্স পার্টির নেতা নিগেল ফারাজে বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমরা দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাই। আমি এমন একটি অভিবাসন নীতি চাই যেখানে কোনও বৈষম্য থাকবে না। সূত্র: এএফপি।
/এএ/








