ইরাকের বাগদাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত এক মুসলিম-আমেরিকান সেনা কর্মকর্তার বাবা ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে এ সমালোচনা করেন।
২০০৪ সালে বাগদাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খান। চারদিন ব্যাপী সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে নিহত ক্যাপ্টেনের বাবা খিজির খান যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের সমালোচনা করেন। খিজির খান বলেছেন, ট্রাম্পের এই নীতি যদি বাস্তবায়িত হতো তাহলে তার ছেলে কখনোই মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পেত না।
খিজির খান বলেন, আমাদের ছেলে হুমায়ুনের স্বপ্ন ছিল সামরিক আইনজীবী হওয়ার। কিন্তু সে যেদিন তার সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে নিজেকে উৎসর্গ করল, সেদিনই সে তার স্বপ্নকে একপাশে সরিয়ে রাখে।
জনাকীর্ণ সম্মেলনে নিহত সেনার বাবা বলেন, হিলারি যখন আমার ছেলেকে ‘দ্য বেস্ট অব আমেরিকা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন তখন তিনি সঠিক ছিলেন। যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প হতেন, তাহলে আমার ছেলে আমারেকিাতে আসতেই পারত না।
খিজির খান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমেরিকানদের ভবিষ্যত নিয়ে আপনাকে বিশ্বাস করতে বলছেন। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনি কি কখনও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পড়েছেন? আপনাকে আমার সংবিধানের কপিটি খুশি মনে দিতে পারি। সংবিধানে ভালো করে পড়ে দেখুন, সেখানে স্বাধীনতা ও সমান আইনি নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে।
আরলিংটন সমাধি ক্ষেত্র ট্রাম্প পরিদর্শন করেছেন কিনা তাও জানতে চান খান। বলেন, আমেরিকাকে সুরক্ষিত রাখতে জীবন দেওয়া সাহসী দেশপ্রেমীদের সমাধি দেখে আসুন। আপনি দেখতে পাবেন সব ধর্মের, লিঙ্গের ও জাতির মানুষ রয়েছেন সেখানে। আপনিতো কাউকে এবং কিছুই বিসর্জন দেননি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে খিজির খান যুক্তরাষ্ট্রে যান। ইরাকে দায়িত্ব পালনের সময় তার ছেলে হুমায়ুনের বয়স ছিল ২৭ বছর। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
আরও পড়ুন:
- ফ্রান্সের মসজিদে বিদেশি তহবিল বন্ধে আইএসের হামলা বৃদ্ধির আশঙ্কা
- ধারাবাহিক হামলায় উদ্বিগ্ন জার্মানি: তবুও শরণার্থীদের জন্য দরজা খোলা রাখবেন মের্কেল
- শপথ নিলেন পেরুর ‘মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগকারী’ প্রেসিডেন্ট
/এএ/








