X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

করোনা ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা কাদের জন্য?

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:২১

দেশজুড়ে কোভিডের ওমিক্রন ও ডেল্টা ভ্যারিয়্যান্টের সংক্রমণের কারণে শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণাসহ নতুন করে কিছু বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। এর আগে ১৩ জানুয়ারি থেকে উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশনাও জারি আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কাদের জন্য এই বিধিনিষেধ? কারা মানছেন আর না-মানার বিষয়টি কারা দেখবেন? সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকার কোথাও নির্দেশনাগুলোর কোনোটিই মানা হচ্ছে না।

এক দিকে নির্দেশনা জারি হচ্ছে, আরেক দিকে চলছে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার বোঝাই মানুষ নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান, হলভর্তি দর্শক নিয়ে সিনেমা দেখা। ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেও দেখা যাচ্ছে না কোথাও।

পরামর্শক কমিটিতে যুক্তরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ তারা করেছে। যা পরামর্শ দেওয়ার, সুপারিশ করার তারা করেছে। বাস্তবায়ন করবে সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। সবাই যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন না করে তবে সেটার দায় স্বাস্থ্যের নয়।

২০২১ সালের মার্চে যে ১৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে জনসমাগমে নিরুৎসাহিত করাসহ সকল পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় না করতে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছিল। সেসময়ও নির্দেশনা মানতে দেখা যায়নি।

কোথাও নেই সচেতনতার বালাই

করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে প্রথম সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল। যা পরে সাত দফা বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কেবল সেই সময়ই জারিকৃত নির্দেশনা মানতে দেখা গেছে। পরে দফায় দফায় নির্দেশনা জারি হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পান্থপথের একটি রেস্তোরাঁয় দেখা গেলো সান্ধ্যকালীন আড্ডা চলছে প্রতি টেবিলে। দুই টেবিলের মধ্যে দূরত্ব নেই বললেই চলে। খেতে ঢুকে মাস্ক পরে থাকার কোনও কারণ নেই। এক কাস্টমার চলে যাওয়ার পর স্যানিটাইজার দিয়ে টেবিল মুছতেও দেখা গেলো না কাউকে। ‍

করোনা ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা কাদের জন্য?

দেশে আবার করোনার সংক্রমণ বাড়ার পরও ক্রেতা-বিক্রেতা কারওর মধ্যে নেই সচেতনতার বালাই। কেউ বিষয়টাকে আমলে কেন নিচ্ছেন না জানতে চাইলে চার জনের জন্য নির্ধারিত টেবিলে বসে থাকা পাঁচ জনই বললেন, আমরা টিকা নিয়েছি।

টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, এটা জানেন কিনা প্রশ্নে একজন বলেন, ‘মারা তো যাচ্ছে না, কষ্টও হচ্ছে না, হাসপাতালে যাচ্ছে কম। সবইতো স্বাভাবিক।’

রেস্তোরাঁর মালিক স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি নজরে রাখছেন কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, ক্যাশ-কাউন্টারের সামনে স্যানিটাইজার রেখেছে। যদিও সেটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়।

প্রধান সড়ক থেকে ভেতরের দিকে ঢুকলে দেখা যায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। পুরো রাস্তাজুড়ে দুই সারিতে ভ্যান। সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা কারও মুখে মাস্ক নেই। একই পণ্য একাধিক ব্যক্তি নেড়েচেড়ে দেখছেন, কেনাকাটা করছেন। 

একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্র সংগঠনের মিছিল ও সভা চলছে। যথারীতি কারও মুখে মাস্ক নেই। দূরত্ব তো দূরের কথা, ভিড়ের মাঝে একজন থেকে আরেকজনকে আলাদা করে চেনাই মুশকিল।

ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে তিন দিনব্যাপী করোনার বিরুদ্ধে নৃত্যানুষ্ঠান, শহরের আরেক প্রান্তে চলছে বাণিজ্য মেলা, ছোট উদ্যোক্তাদের বদ্ধ ঘরের মেলাও চলছে নির্দ্বিধায়।

‘সমন্বিতভাবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন না করা গেলে ১১ দফা কাগজেই থেকে যাবে’

এদিকে বৃহস্পতিবারের হিসাব বলছে, দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৮৮৮ জনের। একই সময়ে চার জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৮০ জনের এবং শনাক্ত ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৮২ জন। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতও অর্ধেক জনবল দিয়ে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতি ঠেকাতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য ও জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানানোর দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের নয়। এখানে আরও অনেক সরকারি সংস্থার কাজ রয়েছে। সমন্বিতভাবে যদি কাজ না করা যায় তবে ১১ দফা নির্দেশনায় কাজ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, সবাইকে মাস্ক পরতে বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেটা পরানোর কাজতো এই মন্ত্রণালয়ের নয়। এটা স্বরাষ্ট্র বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাজ। এ কাজে জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে।

একই কথা বললেন কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান। তিনি বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট বসিয়ে জরিমানা করার দায়িত্ব স্বাস্থ্যের নয়। যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদেরকে কাজটা করতে হবে। একটা মহামারির সময় যদি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় এবং প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্ব পালন না করে তাহলে মহামারি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। সমন্বিতভাবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন না করা গেলে ১১ দফা কাগজেই থেকে যাবে।’

/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আদালতে হাজির ছিলেন কৃষক, পুলিশের প্রতিবেদনে অংশ নিয়েছেন সংঘর্ষে 
আদালতে হাজির ছিলেন কৃষক, পুলিশের প্রতিবেদনে অংশ নিয়েছেন সংঘর্ষে 
চট্টগ্রামের ৩ থানায় নতুন ওসি
চট্টগ্রামের ৩ থানায় নতুন ওসি
ম্যাথুজ নিজেও বোঝেননি তার ব্যাটে বল লেগেছে
ম্যাথুজ নিজেও বোঝেননি তার ব্যাটে বল লেগেছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বাবার নামে আসে বিদ্যুৎ বিল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বাবার নামে আসে বিদ্যুৎ বিল
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সম্রাটের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মনে করছে বিএসএমএমইউ
সম্রাটের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মনে করছে বিএসএমএমইউ
আজও মৃত্যু নেই, শনাক্ত ৩৭ 
আজও মৃত্যু নেই, শনাক্ত ৩৭