কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনে ২ প্রতিবন্ধকতা দেখছেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ মার্চ ২০২২, ২৩:০৭ আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ০০:৫৯

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্ল্যান্ট বা কৃত্রিম হৃৎপিণ্ডের প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মূলত এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা হলো। জটিল এ অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাওয়া রোগী ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং তার জ্ঞান ফিরেছে বলে জানা গেছে। বুধবার (২ মার্চ) ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রধান কার্ডিয়াক সার্জন ও কার্ডিয়াক সেন্টারের পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর কবির ৪২ বছর বয়সী এক নারীর হৃৎপিণ্ডে মেকানিক্যাল হার্ট বা এল্ভ্যাড (Left Ventricular Assist Device-LVAD) স্থাপন করেন। ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্রের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার হৃৎপিণ্ড প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে, সফল অস্ত্রোপচারের পরও এভাবে সর্বজনীনভাবে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনে দুটি প্রতিবন্ধকতা দেখছেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

সফল অস্ত্রোপচারের পর ইউনাইটেড হাসপাতাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে অস্ত্রোপচার দলের প্রধান ডা. জাহাঙ্গীর কবির জানান, যাদের হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে তাদের জন্য এই চিকিৎসা। এ অস্ত্রোপচারে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি যন্ত্র হৃৎপিণ্ডের নিচে বসানো হয়। অস্ত্রোপচার সফল হলে সেটি হৃৎপিণ্ডকে পাম্প করতে সহায়তা করে। এ কারণে একে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড বলা যাবে। আর দেশে হৃৎপিণ্ডের এ জটিল অস্ত্রোপচার এটিই প্রথম।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও অন্যরা তবে এই যন্ত্রটির দাম প্রায় সোয়া কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এটি মানুষের শরীরে স্থাপন করতে দেড় কোটি টাকার মতো খরচ হবে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতাল।

সংবাদ সম্মেলনের পরে ডা. জাহাঙ্গীর কবির কথা বলেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে। তিনি জানান, দেশে প্রথম এই অস্ত্রোপচারের তথ্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় বিষয়। তবে এ ক্ষেত্রে দুটি প্রতিবন্ধকতার কথাও বলেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম প্রতিবন্ধকতাই হচ্ছে ডিভাইজের দাম। ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্ল্যান্টের এই ডিভাইসটির দামটা অনেক বেশি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, দাম কমবে। আমরা যে ডিভাইসটি আজ ইমপ্ল্যান্ট করলাম সেটি সবচেয়ে লেটেস্ট।’

‘কিন্তু বাংলাদেশে যেহেতু সেই অর্থে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ট্যাক্স মওকুফ না করলে খুব বেশি মানুষ এই সুবিধা নিতে পারবে না। তবে ট্যাক্স মওকুফ করা হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারণ এটিকে সরকার উৎসাহিত করতে চাইবে,’ বলেন তিনি। সফল অস্ত্রোপচারের পর হাস্যোজ্জ্বল চিকিৎসকরা

আর দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে মানুষের আস্থার কথা বলেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতা হলো, দাম কমে আসলেও মানুষের আস্থা আনতে সময় লাগবে। বিষয়টি বুঝে সেটি গ্রহণ করা একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হতে পারে।’

আজকের অস্ত্রোপচারের সংবাদের পর অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে, আপনার কী মনে হয় রোগীর সামর্থ্য থাকলে আপনারা এটি করতে পারবেন? প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়। যারা আর্থিকভাবে সমর্থ ও আগ্রহী হবেন তাদের জন্য এটি করতেই চাই আমরা। তবে দামটা কমানোর উদ্যোগটিও আসবে, সেই কামনা করি। না হলে এটি আসলে ধনাঢ্য পরিবারের সদস্য ছাড়া কেউ করাতে পারবেন না।’

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই যন্ত্রটি হৃৎপিণ্ডের নিচে বসানো হয় এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে অকার্যকর হৃৎপিণ্ড চিকিৎসা হলো অন্য আরেকটি সুস্থ হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা। তবে সুস্থ হৃদপিণ্ড যদি না পাওয়া যায় কিংবা পেতে দেরি হয় এবং অবস্থা যদি দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে তবে মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্ল্যান্ট করা হয়।

‘এতে রোগীর হৃৎপিণ্ড কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং সমস্ত শরীরের রক্ত চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন– কিডনি, লিভার ইত্যাদি সেরে ওঠার সুযোগ পায়। তীব্র হার্ট ফেইলিওরে আক্রান্ত কিছু রোগী হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের উপযুক্ত না হলে তাদের জন্য একমাত্র বিকল্প এই প্রতিস্থাপন। যার মাধ্যমে তারা বাকি জীবন সুস্থভাবে অতিবাহিত করতে পারবেন।’

এই যন্ত্রটি কতদিন ধরে কাজ করতে পারবে জানতে চাইলে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘এটি স্থাপনের পর ১৭ বছর থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারে। তবে এটা কতদিন কাজ করবে তা নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসহ কয়েকটির বিষয়ের ওপর।’

কৃত্রিম হৃদযন্ত্র স্থাপন করা ওই রোগী এখনও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র আছেন। সেখানে তাকে আরও চার থেকে পাঁচ দিন রাখা হবে। তবে যেহেতু প্রথম অস্ত্রোপচার তাই আরও কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

 

 

/ইউআই/জেএ/এমএএ/
সম্পর্কিত
সরকারি হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে পলেস্তারা পড়ে ৩ রোগী আহত
স্বামীকে কিডনি দিচ্ছেন স্ত্রী, বললেন ‘সে না থাকলে আমার বেঁচে থেকে লাভ কী’
সরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের হাতাহাতি
সর্বশেষ খবর
রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তির ব্যবহারে উদ্বেগ জানিয়ে ৩৮ নাগরিকের বিবৃতি
রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তির ব্যবহারে উদ্বেগ জানিয়ে ৩৮ নাগরিকের বিবৃতি
সম্পদের তথ্য গোপন করে স্ত্রীসহ সাজা পেলেন সিভিল অ্যাভিয়েশনের হিরণ
সম্পদের তথ্য গোপন করে স্ত্রীসহ সাজা পেলেন সিভিল অ্যাভিয়েশনের হিরণ
রাজধানীতে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে তালাবদ্ধ ঘর থেকে নারীর লাশ উদ্ধার
রাজধানীতে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে তালাবদ্ধ ঘর থেকে নারীর লাশ উদ্ধার
শৈশবের অংশ হয়ে উঠছে সোশ্যাল মিডিয়া, বাড়ছে উদ্বেগ
শৈশবের অংশ হয়ে উঠছে সোশ্যাল মিডিয়া, বাড়ছে উদ্বেগ
সর্বাধিক পঠিত
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
চাঁদপুর-বরিশালের ইলিশের নামে কোথাকার মাছ খাচ্ছেন জানেন?
চাঁদপুর-বরিশালের ইলিশের নামে কোথাকার মাছ খাচ্ছেন জানেন?
শহীদ আবু সাঈদের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা
শহীদ আবু সাঈদের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা
প্রায় দেড় কোটি রুপি জরিমানা দিয়ে দায়মুক্তি পেলো আদানি গ্রুপ
প্রায় দেড় কোটি রুপি জরিমানা দিয়ে দায়মুক্তি পেলো আদানি গ্রুপ
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির দুই নেতারই মনোনয়নপত্র বৈধ
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির দুই নেতারই মনোনয়নপত্র বৈধ